প্রতীকি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বসিরহাট: বাড়ির পরিচারিকাকে লাগাতার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট। পরিচারিকার অভিযোগের ভিত্তিতে বসিরহাটের মাটিয়া থানা চাঁদনগর গ্রামের বাসিন্দা রামপ্রসাদ সাঁপুই নামে ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ মাস আগে চাঁদনগর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার রামপ্রসাদ সাঁপুইয়ের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ নেন বছর বাহান্নর মহিলা। পঞ্চাশোর্ধ ওই মহিলার অভিযোগ, চাঁদনগরের বিজেপি নেতা পামপ্রসাদবাবুর স্ত্রী বাড়িতে বাড়িতে ছিলেন না অনেকদিন। সেই সুযোগেই দিনের পর দিন তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। অনেক অনুরোধেও কোনও কাজ হয়নি।

এমনকী ঘটনার কথা কাউকে জানালে ফল ভালো হবে না বলে হুমকিও দেওয়া হয় মহিলাকে। কিন্তু লাগাতার শারীরিক নির্যাতনের জেরে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই মহিলা। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানেই শারীরিক পরীক্ষার সময় তিনি গোটা ঘটনার কথা জানান।

যদিও বিজেপি নেতা এবং তাঁর স্ত্রী বিজেপি নেত্রী অনিতা সাঁপুই ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাঁদের দাবি, সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত করেই তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। বিজেপির জেলা সভাপতি তারক ঘোষের অবশ্য দাবি, ‘‘তৃণমূলের লোকজন পরিকল্পনা করে ওঁকে ফাঁসিয়েছে। মানসিক ভাবে অসুস্থ এক মহিলাকে দিয়ে রামপ্রসাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই করা হয়েছে।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, মহিলার শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তও শুরু হচ্ছে। অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শাস্তি পাবেই। একইভাবে অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণিত হলে নির্যাতিতার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার ধৃত বিজেপি নেতাকে আদালতে তোলে পুলিশ।

অন্যদিকে, একের পর এক এহেন ঘটনায় নাম জড়াচ্ছে বিজেপির। যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, গত ২ বছর আগের একটি ধর্ষণ মামলায় জেরা করার জন্য রাজ্য বিজেপির ভারপ্রাপ্ত নেতা তথা কেন্দ্রীয় সম্পাদক শিবপ্রকাশকে নোটিস পাঠাল বেহালা থানার পুলিশ। দলেরই এক মহিলা কর্মী ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।

২০১৮ সালের এই মামলায় আগে বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক অমলেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে অভিযোগীকারী মহিলাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিতে জামিন পান প্রাক্তন বিজেপি নেতা। কিন্তু কথা মতো বিয়ে হলেও একসঙ্গে থাকতে চাননি অমলেন্দু চট্টোপাধ্যায়।

সেই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে নাম ছিল শিবপ্রকাশেরও। এতদিন পর তাঁকে নোটিস পাঠাল বেহালা থানা। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও