স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যখন বিজ্ঞানসম্মতভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী তখন তাঁরই দলের লোকেরা ধর্মীয় বিশ্বাস ও পুজো-অর্চনায় আস্থা রাখছেন। করোনা ভাইরাস রুখতে আবারও হোমযজ্ঞ হল খোদ কলকাতায়।

বৃহস্পতিবার, রাম নবমীর দিন কলকাতার বেলেঘাটার কাদাপাড়া এলাকায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি মন্দিরে এই যজ্ঞের আয়োজন করেন বিজেপি সদস্যরা। মন্দিরের বাইরে করোনা নিবারণে যজ্ঞ বলে কাগজও সাঁটিয়ে দেয় তারা।

কিন্তু এতে কি করোনা মোকাবিলা সম্ভব? যজ্ঞের আয়োজনকারীরা বলেন, “সনাতন হিন্দু ধর্মে এই ধরনের সমস্যা হলে যজ্ঞের বিধান দেওয়া আছে। তাই এই রোগ নিরাময় হবেই।”

কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রী যেখানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে করোনার মোকাবিলা করতে বলেছেন, সেখানে কেন এমন যজ্ঞের আয়োজন? বিজেপি সমর্থকের কথায়, “পুজো করতে বাধাও দেননি প্রধানমন্ত্রী। তাই এই আয়োজন।” এদিন মুখে মাস্ক পরেই যজ্ঞে বসেছিলেন তাঁরা।

এই ঘটনাকে কটাক্ষ করেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। দেশের এমন পরিস্থিতিতে কুসংস্কার ছড়িয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টাকে কঠোর সমালোচনা করেছে তারা।

করোনা রুখতে এর আগেও দেশের অনেক জায়গায় যজ্ঞ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও সারা দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু করোনার ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি, তাই এই মারণ ব্যাধিকে রোখার একমাত্র পথ গৃহবন্দি হয়ে থাকা। কিন্তু বহু মানুষ সে কথায় কানই দিচ্ছেন। লকডাউন উপেক্ষা করেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন কখনও বাজার করতে কখনো আড্ডা মারতে আবার কখনও ঘুরতে।

উল্লেখ্য, করোনা রুখতে এদিন অযোধ্যায় ৫১ দিনের যজ্ঞ শুরু করল রামাদল ট্রাস্ট।