গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় নিজেদের মাটি শক্ত করে বঙ্গ-বিজেপি। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দেয় মুকুল-দিলীপের জোট। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের একবার নিজেদের হারানো জায়গা ফিরে পেতে মরিয়া শাসকদল।

বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের আগে নিজের ঘর গোছাতে চলেছে শাসকদল। বাংলাজুড়ে সংগঠনকে মজবুত করছে। আর সেই লক্ষ্যেই বঙ্গ বিজেপিকে একের পর এক গোল তৃণমূলের। জেলায় একের পর বিজেপি গড়ে থাবা বসাচ্ছে তৃণমূল।

গত কয়েকদিনে জেলার একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। বিজেপি ছেড়েছে বিপ্লব মিত্র, হুমায়ূন কবীরের মতো হেভিওয়েট নেতা। এবার বারুইপুরে বিজেপিতে বড়সড় ভাঙন। বিজেপি ছাড়লেন চারশোর বেশি নেতা-কর্মী। আজ রবিবার সকালে বিজেপি ছেড়ে সবাই তৃণমূল যোগ দেন। যা বিজেপির কাছে বড়সড় ধাক্কা হিসাবেই মনে করা হচ্ছে।

একসঙ্গে এত নেতা-কর্মী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়াতে আত্মবিশ্বাসী জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের পালটা দাবি, আগামিদিনে আরও বিজেপি নেতা-কর্মীরা দলে দলেন যোগ দেবে। জানা যায়, এদিন সকালে ক্যানিং বাসস্ট্যান্ডে তৃণমূলের তরফে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে ছিলেন জেলা পরিষদের দুই সদস্য তপন সাহা, সুশীল সরদার। ছিলেন, মাতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হরেন ঘড়ুই, মাতলা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উত্তম দাস।

সেই অনুষ্ঠান মঞ্চেই ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের গোপালপুর, নিকারিঘাটা, মাতলা ১, তালদি এবং বাঁশড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ওই বিজেপি কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর পরেশরাম দাস।

তাঁর বক্তব্য, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও মানুষ বিজেপি ছাড়বে। দলটাই আর থাকবে না বলে দাবি নেতৃত্বের। যদিও তৃণমূলের এহেন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। তাঁদের পালটা দাবি, নেতা-কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর তা করেই বিজেপি ছেড়ে নেতা-কর্মীদের তৃণমূলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে দাবি বিজেপির। তবে বিধানসভায় মানুষ ভোট বাক্সে এর জবাব দেবে বলে দাবি বিজেপির। যদিও এহেন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তাদের পালটা দাবি, যারা বিজেপিতে গিয়েছিল তাঁরা নিজেরাই তৃণমূলে ফিরে আসার জন্যে যোগাযোগ করছে। তৃণমূল নেত্রীর উন্নয়নে সামিল হতে চাইছে। আগামিদিনে আরও মানুষ দলে আসবে বলে দাবি স্থানীয় নেতৃত্বের।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই দল ছেড়েছেন উত্তর দিনাজপুরের বিজেপি নেতা বিপ্লব মিত্র এবং তাঁর ভাই প্রশান্ত মিত্র। দল ছেড়েছেন হুমায়ূন কবীর। যদিও তাঁদের দল ছাড়া প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন, দলে থাকতে গেলে ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে হবে। ঠাণ্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করে না বিজেপি। তাই তৃণমূল থেকে এসে আবার তৃণমূলেই ফিরে যেতে হয়েছে হুমায়ুন কবীর, বিপ্লব মিত্রদের মতো নেতাদের।

শাসকদলের ধান্দাবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে এমনই কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন বিজেপির রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।