ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: তৃতীয় দফায় রাজ্যের পাঁচ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ৷ রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এসছে৷ চলেছে গুলি ফেটেছে বোমাও৷ বুথে টহল দেওয়ার প্রতিবাদে কুমারগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোদ পুলিশকেই হুমকি দেন৷ তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, কুশমণ্ডিতে ভোটের লাইন থেকে টেনে নিয়ে বিজেপি কর্মীকে মারধর করা হয়৷ তপনে বিজেপি কর্মীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ৷ আর এরই মাঝে আরামবাগে ভোট প্রচারে গিয়ে তণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মালদহে বিজেপির হয়ে ভোট করাচ্ছে আধাসেনা৷ আর এর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি৷

শুধু তাই নয়, ইটাহারের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী৷ সেখানেও নাকি ভোটারদের বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে৷ আরামবাগের জনসভায় এদিন মমতা বলেন, ‘এসব কথায় প্রভাবিত হবেন না৷ যারা ৩৬৫ দিন আপনাদের পাশে থাকবে তাকেই ভোট দিন৷ নিজের ভোট নজে দিন৷’ পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতার দাবি, আরমবাগে যখন বন্যা হয় তখন কে আসে? তখন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘুরতে হয়৷

রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে মমতার অভিযোগ, বাংলাকে নিয়ে এত বিদ্বেষ কেন? বিহার, উত্তরপ্রদেশে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে? আমি বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলি বলে এত হিংসা৷ মোদীর রক্তচক্ষু একদিন ভাঙবে৷’ শুধু তাই নয়, ভোটের আগে অফিসার বদলি নিয়েও এদিন সরব হন মমতা৷ তাঁর কথায়, বিজেপি শাসিত কোন রাজ্যে কত অফিসার বদলি করেছো হিসেব দাও৷ মোদীকে মমতার হুঁশিয়ারি, যে বাংলা নিয়ে স্বপ্ন দেখছে ওরা সে বাংলায় স্বপ ভঙ্গ হবে৷ ৫০০ ব্যাটেলিয়ন এনে ভোট করালেও বাংলাই টাইট দেবে বিজেপিকে৷ বাংলাই এবার ভারতবর্ষ দখল করবে বলেও দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী৷

আরামবাগে ভোটপ্রচারে গিয়ে ত্রিপুরার ভোটে রিগিং-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন মমতা৷ তাঁর অভিযোগ, ত্রিপুরায় কোনও নির্বাচন হয়নি৷ পুরোটাই রিগিং করে ভোট করিয়েছে বিজেপি৷ পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে মমতা এদিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন৷ তাঁর দাবি, বাংলার মানুষের কথা ভাবে না ওরা৷ বিজেপির সুবিদার্থে বাংলায় এই গরমে ৭ দফায় নির্বাচন করেছে কমিশন৷

পাশাপাশি এদিন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগীর ‘মোদী সেনা’ মন্তব্য নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী৷ মমতার কথায়, ‘সেনা জাওয়ানরা আমাদের দেশের গর্ব৷ আর তাঁকে ওরা মোদীর সেনা বলছে৷ সেনার রক্ত দিয়ে রাজনীতি করছে৷ সব এজেন্সিগুলিকে পকেটে পুড়েছে মোদীর সরকার৷ কিন্তু এসব করে ভোটে জেতা যায় না৷