তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রতিশ্রুতিই সার! এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী থাকা সত্ত্বেও আজও বাঁকুড়ার ভুতোশ্বর-ওন্দার তপোবনে দ্বারকেশ্বর নদী ঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। এলাকাবাসীর উদ্যোগে দ্বারকেশ্বর নদীর উপর তৈরী বাঁশের সাঁকোই এখন যাতায়েতের একমাত্র ভরসা।

কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত ওন্দার এই এলাকা। তাছাড়া জীবন জীবিকার স্বার্থে ও পড়াশুনার জন্য এলাকার প্রায় কুড়িটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই বাঁকুড়া শহরে যাতায়াত করেন। এখানে সেতু দিয়ে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরত্বে বাঁকুড়া শহরে পৌঁছানো সম্ভব।

যেখানে বর্ষার সময় সেতুর জল বাড়লে ধলডাঙ্গা মোড় হয়ে প্রায় পনেরো কিলোমিটার ঘুরে শহরে পৌঁছাতে হয়। বিষয়টি নিয়ে বার বার প্রশাসনিক স্তরে আবেদন করা হলেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। সম্প্রতি এলাকার মানুষ ‘সেতু নির্মাণ আন্দোলন কমিটি’ গড়ে গ্রামে গ্রামে ফেস্টুন লাগিয়ে প্রচার করে ব্যপক গণ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সৌমেন পাত্র, সঞ্জয় কোনাররা বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপারে সব সময় জীবনের ঝুঁকি থাকে। যেখানে এই নদী পেরিয়ে দু’কিলোমিটার দূরত্বে বাঁকুড়া শহরে পৌঁছানো যায়। সেখানে রাজ্য সড়ক ধরে ঘুরপথে প্রায় পনেরো কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিষয়টি বারবার প্রশাসনকে জানালেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছাড়া তারা কোনও কাজের কাজ করেননি বলে অভিযোগ।

বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার স্বভাবসিদ্ধভঙ্গিতে বামেফ্রন্ট সরকারের সঙ্গে তৃণমূলে সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এই দীর্ঘ সময়কালে কেউ বিষয়টি নিয়ে ভাবেনি। অনেক আগেই এই সেতু নির্মাণ করা উচিৎ ছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, উনি শুধুই প্রতিশ্রুতি দেন, সে প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়না।

রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে দ্বারকেশ্বর নদীর উপর তিনটি সেতু নির্মাণ করেছেন। রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দিনরাত এক করে মানুষের কথা ভাবছেন। ওই এলাকার মানুষের দাবীও তিনি নিশ্চয় পূরণ করবেন বলে তিনি জানান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ