ছবি- শশী ঘোষ

সুমন বটব্যাল ও মানব গুহ, কলকাতা: ১৫ দিনের ব্যবধানে বদলে গেল ছবিটা৷ মুকুল রায়ের বিশ্ব-বাংলা ‘বোমা’কে হাতিয়ার করেই আগামীদিনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনে নামতে চলেছে বিজেপি৷ শনিবারের বারবেলায় বিজেপির রাজ্য দফতরে মুকুল রায়ের সাংবাদিক বৈঠকে হাজির থেকে তা স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির এরাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ শুধু কৈলাসই নয়, এদিন মুকুলের পাশে ছিলেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়োও৷

প্রসঙ্গত, গত ১০ নভেম্বর রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে বিশ্ব বাংলা ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগেছিলেন মুকুল রায়৷ যদিও সেই সময় এবিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘‘এটা মুকুলবাবুর ব্যক্তিগত বিষয়৷ এবিষয়ে দল কোনও মন্তব্য করবে না৷’’ দলীয় সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে নিজের ঘনিষ্ঠ মহলের পাশাপাশি বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর কাছেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের ‘প্রাক্তন’ চাণক্য৷

মুকুল ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বিশ্ব বাংলা থেকে জাগো বাংলা, এমনকি তৃণমূলের মা-মাটি-মানুষের স্লোগান প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্যের শাসকদলকে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় ফেলার মতো তথ্য রয়েছে৷ অনায়াসে এই ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন করে শাসকদলের ভাবমূর্তি নষ্ঠ করা সম্ভব বলে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর সঙ্গে আলাপচারিতায় জানান তিনি৷ এমনকি নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে যাবতীয় তথ্যও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর কাছে৷ সূত্রের খবর, এরপরই মুকুল রায়ের ‘ব্যক্তিগত’ ইস্যুকেই দলের ইস্যুতে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷

তারই জেরে এদিন রাজ্য দফতরে মুকুল রায়ের সাংবাদিক বৈঠকে হাজির থাকতে দেখা গিয়েছে কৈলাস ও বাবুলকে৷ দেরিতে হলেও সেই সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষও৷ দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক তথা এরাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় সাংবাদিক বৈঠকের গোড়াতেই জানিয়ে দেন, ‘‘বিশ্ববাংলা ইস্যুতে মুকুল রায় নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন৷ আমরাও তাঁর সঙ্গে রয়েছি৷’’ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পাশে পেয়ে এরপরই বিশ্ববাংলা ইস্যুতে এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই নিশানা করলেন তিনি৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হলফনামা দেখিয়ে বললেন, ‘‘বিশ্ব-বাংলার মতো জাগো বাংলা’র ট্রেড মার্কও তৃণমূলের নয়। অভিষেক নিজেই বলেছেন, তিনি যা করেছেন তাতে অনুমোদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’

এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুকুল রায় দাবি করেছেন, ‘‘আমার মন্তব্যের পরেই ১৩ নভেম্বর অভিষেক ট্রেড মার্কের মালিকানা থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয়, আমিই ঠিক।’’ মুকুল যখন একথা বলছেন, তখন পাশে বসে ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাতে দেখা গিয়েছে কৈলাস ও বাবুলকে৷ যা দেখে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, মুকুল ইস্যুকে সামনে রেখেই রাজ্য থেকে তৃণমূল ‘বধে’র পথে হাঁটতে চলেছেন গেরুয়া শিবির৷