বিশেষ প্রতিবেদন: একমাত্র নরেন্দ্র মোদীই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বাংলার জনতাকে বাঁচাতে পারেন – লোকসভা নির্বাচনের আগে কিছু এই ধরণের বক্তব্য রেখেই পশ্চিমবঙ্গে প্রচার শুরু করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি, বর্তমানে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ‘এনআরসি’ – এর রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিকতা অনেক আগেই অনুধাবন করেছিলেন শাহ।

তারপির থেকেই, বাংলার নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলগতভাবেই ‘এনআরসি’-ইস্যুটি প্রবলভাবে প্রকাশ্যে এনেছে বিজেপি৷ নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ, বিজেপির প্রথমসারির নেতারা সরাসরি বলেছেন, এনডিএ সরকারের পরবর্তী লক্ষ পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ চালু করা৷ ভোটের রাজনীতিতে ফলাফলও হাতেনাতে পাওয়া গিয়েছে। লোকসভায় ১৮ টি আসন পেয়ে তৃনমূল কংগ্রেসকে ‘কড়া ট্যাকল’ করতে পেরেছে রাজ্য বিজেপি।

আরও পড়ুন : ‘বাংলাভাষী দেশহীন’দের নেবে না হাসিনা সরকার, তৈরি হচ্ছে ‘নব্য রোহিঙ্গা’

অন্যদিকে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হলে বাংলাদেশ এবং নেপাল থেকে আগত হিন্দু শরণার্থীরা ভারতীয় হবেন৷ কৌশলগতভাবে এই বিষয়টিও ভাসিয়ে রেখেছেন অমিত শাহ।

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি এন আর সি-এর ব্যাপারে ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু করে দিয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি চটি বই বিলি করে বিজেপি বোঝাতে চাইছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্থান থেকে আসা মুসলমানরা যেমন বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, অন্যদিকে ওই দুই দেশ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি, শিখ বা খ্রিস্টানদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হলেন শরণার্থী৷

ভারতের বিজেপি সরকার, প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেবে৷ কারণ, তাঁরা বিপদের মুখে নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন৷ অন্যদিকে মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে, কারণ সীমান্তের ওপার থেকে রোজগার বা বাসস্থান খুঁজে পেতে, কিংবা কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই তারা এদেশে এসেছে৷

আরও পড়ুন : Assam Accord বলছে 1966 সালের পর কোনও বিদেশির জায়গা হবে না অসমে

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ নির্বাচনের মুখে পশ্চিমবঙ্গের ভোটকে ধর্মীয় মেরুকরণের দিকে টেনে গিয়েছেন অমিত – যা প্রত্যাশিতই ছিল৷ ফলও পেয়েছেন। কলকাতার মেয়ো রোডের মঞ্চে জনসভা করতে এসে অমিত কোনো এক বিকেলেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাংলায় বিজেপির নির্বাচনের সব থেকে বড় অ্যাজেন্ডা এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল যা সংসদে আইন হিসেবে এখনও পাশ হয়নি৷

বিজেপির রণনীতি মমতা যে বুঝতে পারেনি তা নয়। বরং, লোকসভা নির্বাচনের আগে এবং তারপর মমতার রাজনীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এই সময় দাঁড়িয়ে এন আর সি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা বিরোধিতায় যান সেটাই দেখার – কারণ কাশ্মীরে আর্টিকল ৩৭০ নিয়ে বিরোধিতা করলেও মাত্রাছাড়া মোদী বিরোধিতায় নামেননি মমতা। দেশের স্বার্থ আগের দেখেছেন। এনআরসি নিয়ে হিন্দু ‘সেন্টিমেন্টকে’ আঘাত করবেন কি মমতা, সেটাই দেখার।