নয়াদিল্লি: অসম এবং অরুণাচল প্রদেশে ব্রহ্মপুত্র নদের জল কালো হওয়ার পিছনে কি সত্যিই আদৌ চিনের কারসাজি রয়েছে? এই নিয়ে বিবাদ চলছেই৷ এই বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরেই বাঁধল বিবাদ৷

অসমের অর্থমন্ত্রী হিমন্তা বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, ব্রহ্মপুত্র নদের জল কালো হওয়ার পিছনে চিনেরই কারসাজি রয়েছে৷ কারণ চিন ভারতকে জলশূণ্য করার জন্য ছক কষেছিল৷ সেই কারণে তিব্বত থেকে চিনের জিনজিয়াং এলাকা পর্যন্ত নাকি খোঁড়া হত ১০০০কিলোমিটার লম্বা একটি সুড়ঙ্গ৷ সেই সুড়ঙ্গই নাকি দায়ী ব্রহ্মপুত্র নদের জল কালো হওয়ার পিছনে৷ কিন্তু অর্থমন্ত্রীর এই দাবিরই বিরোধিতা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু৷

রিজিজু বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের জল কালো হওয়ার পিছনে চিনের কোনও কারসাজি থাকতেই পারেনা৷ কারণ এই নদ কোনও ছোট্ট পরিখা নয়৷ এটির আয়তন বিশাল৷ তাই এই বিশালাকার নদের নীচে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ মুখের কথা নয়৷ এত কম সময়ের মধ্যে এই কাজটি করা কার্যত অসম্ভব৷ একইসঙ্গে তিনি এও দাবি করেন, ব্রহ্মপুত্র নদের নীচে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজটা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন৷ লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়েও এই সুড়ঙ্গ খোঁড়া কার্যত অসম্ভব৷

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের জল কালো হওয়ার ঘটনাটি একেবারেই সত্যিই৷ কিন্তু এর জন্য চিন নয়, প্রাকৃতিক কারণই দায়ী হতে পারে৷ কিন্তু সেটিও যখন স্পষ্ট নয়৷ তাহলে সেটি যাচাই করে দেখা উচিত৷

হিমালয়ের কৈলাসের কাছে জিমা ইয়ংজিয়ং হিমবাহ থেকে এই নদের উৎপত্তি৷ যা তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত৷ এরপর তিব্বতের পূর্বদিক থেকে প্রবাহিত হয়ে এটি অরুণাচল প্রদেশ হয়ে ভারতে প্রবেশ করে৷ যখন এর নাম থাকে সিয়ং৷ এরপর অসমের উপর দিয়ে দিহাং নামে এই নদীটি বয়ে যায়৷ এরপর দিবং এবং লোহিত নামে আরও দুটি বড় নদী যোগ দেয় এর সঙ্গে এবং সমতলে এসে এর নাম হয় ব্রহ্মপুত্র নদ৷

- Advertisement -