স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আইনীযাত্রায় কী ছাড় মিলবে বিজেপির রথযাত্রার? হাইকোর্টে বিজেপির দায়ের করা মামলার শুনানি শেষ৷ শুরু রায়ের প্রতীক্ষা৷

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এজলাসে বসেননি৷ ফলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চে বিজেপির পক্ষ থেকে মামলা দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। সেই আর্জিই মঞ্জুর হয়।

এদিন শুনানির শুরুতেই বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার ও বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চে মামলায় যুক্ত সমস্ত পক্ষকে মামলার নথি আদালতে পেশ করেন। বিজেপির হয় মামলা করছেন আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র ও সপ্তাংশু বসু।

গণতন্ত্র বাঁচাও অভিযানের অনুমতি চেয়ে বিজেপি এবছর ১৪ নভেম্বর রাজ্যের ডিজি এবং আইজি চিঠি দিয়েছিল৷ জবাব না মেলায় অনুমতি ২৯ নভেম্বর চিঠি দিয়ে চাওয়া হয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং মুখ্য সচিবের৷ প্রথমেই বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, ২৯শে নভেম্বরের দেওয়া চিঠিতে কী ১৪ই নভেম্বর তারিথের চিঠির উল্লেখ ছিল? বিজেপি নেতৃত্ব কী  যখন চিঠির কোনও উত্তর পেলেন না তখন কী তারা সশরীরে দেখা করেছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব বা মুখ্য সচিবের সঙ্গে? নয়তো আপনারা কীভাবে জানলেন যে এই রথযাত্রার অনুমতি দেবে না প্রশাসন?

আরও পড়ুন: শুরুতেই হোঁচট, রাজ্যে আসছেন না অমিত শাহ

বিচারপতিরা বিজেপির আইনজীবীদের পরিষ্কার জানান, বিজেপির চিঠিতে স্পষ্ট নয় তারা রথযাত্রার অনুমতি চাইছেন না সহযোগিতা? আদালতের কাছে এটাই পরিষ্কার নয়, আদালত বুঝতে পারছে না আপনারা ঠিক কী চাইছেন? জবাবে বিজেপির আইনজীবী বলেন ‘আমরা অনুমতি নয়, সহযোগিতা চেয়েছি।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গল বেঞ্চ আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বিজেপির রথযাত্রা বা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই কী বিজেপি আদালতে এসেছে? এটাই পরিষ্কার হচ্ছে না। জানান বিচারপতি সমাদ্দার৷ কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েই তিনি বলেন, ‘গতকালের রায়কে চ্যালেঞ্জ, নাকি গোয়েন্দা রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করেছে বিজেপি?

দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির প্রথমেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল রিশোর দত্ত আদালতে বলেন, ‘কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে বিজেপির তরফে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল তাতে যাত্রার কোনও উল্লেখ ছিল না৷ চিঠিকে পরিষ্কার নয় বিজেপি কী চাইছে৷সেথানে সহযোগীতা ও অনুমতি বলে লেখা ছিল৷ নির্দিষ্ট কিছুর উল্লেখ ছিল না৷ ৩রা ডিসেম্বর ফের কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে বিজেপি চিঠি দিলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি৷ কারণ তখন মামলা বিচারাধীন৷’

বিচারপতি বিজেপির আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনাদের বক্তব্য পরিষ্কার করে জানান৷ সময় নষ্ট করা যাবে না৷’ জবাবে বিজেপির আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র বলেন, ‘রাজ্য বলছে কোচবিহার অতি স্পর্ষকাতর জেলা৷ তাহলে অলিপুরদুয়ার থেকে রথযাত্রার অনুমতি দিতে পারত৷ তিনটি জায়গা থেকে রথযাত্রা বের হবে৷ অনুমতি চাওয়া হয়েছিল৷ তাহলে বাকি জেলাগুলি থেকে কেন যাত্রা বাতিল করা হল৷ সব জেলা স্পর্ষকাতর বললে রাজ্যে তো আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই৷’

এরপরই এজিকে বিচারপতিদের প্রশ্ন, এক মাস সময় পাওয়া সত্ত্বেও রাজ্য কেন কিছু জানালো না৷ রাজ্যের আচরণের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি৷ বিতারপতি এজিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এইসব বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলে বহু মামলার শুনানি আটকে যায়৷ যা কাঙ্খিত নয়৷ আপনারা অনুমতির ক্ষেত্রে খেলোয়াড় কে তা দেখেননি, উলটে দেখেচেন খেলোয়াড়ের জার্সির রং৷ ব্যক্তি মানুষের অধিকারের উপর ইনজংশন জারির চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার৷ যা কাম্য নয়৷’