তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সৌমিত্র খাঁকে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে বিজেপি। বুধবার এসএসসি গ্রুপ ডি চাকরি সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় আগামী ছ’সপ্তাহ বাঁকুড়া জেলায় প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট। এই অবস্থায় দলীয় প্রার্থীকে ছাড়াই ভোটের প্রচার সারতে হবে বিজেপির বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে।

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সৌমিত্র খাঁ কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোতুলপুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরে তিনি ২০১৪ সালের আগে দল বদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। সেই বছরই শাসক দলের প্রার্থী হিসেবে বিষ্ণুপুর (তফঃ) লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদে যাওয়ার ছাড়পত্র আদায় করে নেন তিনি। পরে ২০১৮ সাল থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে এই সাংসদের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে।

এই অবস্থায় তিনি আবারও দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। তার পর পরই সৌমিত্র খাঁ-এর নামে একাধিক মামলা রুজু হয়। বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দেখা যায়, বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে সেই ‘বিদায়ী’ সাংসদ সৌমিত্র খাঁকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাঁকুড়া জেলায় ঢুকতে পারছেন না তিনি। এই অবস্থায় যেখানে জেলায় ১২ মে ভোট গ্রহণ, সেখানে প্রার্থী প্রচারে আসরে না থাকলে রাজনৈতিকভাবে গেরুয়া শিবির অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে বলেই অনেকে মনে করছেন।

এই বিষয়ে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্বপন ঘোষ কলকাতা ২৪×৭ কে টেলিফোনে বলেন, যতদিন সৌমিত্র খাঁ তৃণমূলে ছিলেন ততদিন উনি ‘ধোয়া তুলসী পাতা’ ছিলেন। আর আমাদের দলে আসা মাত্রই উনি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেলেন। আদালতের উপর ‘পূর্ণ আস্থা রেখে’ তিনি বলেন, এখন পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে। শাসক দলের নির্দেশে কেস সাজিয়ে আদালতে পাঠাচ্ছে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আপনাদের প্রার্থী জেলায় ঢুকতে পারছেন না। প্রচারে এর প্রভাব কতোটা পড়বে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কিছুটা হলেও তো প্রভাব পড়বে। সবাই প্রার্থীকে পেতে চাইছে। কিন্তু উনি বাঁকুড়ায় ঢোকার অনুমতি না পেলেও এই লোকসভা কেন্দ্রের বর্ধমানের খণ্ডঘোষে তিনি প্রচার চালাচ্ছেন। প্রচারের রণ কৌশল ঠিক করার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পর বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে স্বপন ঘোষ বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি কিভাবে ধর্ষিত হচ্ছে এই ‘সাজানো মামলা’ গুলিই তার প্রমাণ। কর্মী সমর্থকদের মনোবল অটুট আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন হবেই’। মানুষ তাদের ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন বলেই বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দাবি করেন।