গুয়াহাটি: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে শরিকি ভাঙন ধরিয়ে সরকার থেকে সরে গিয়েছে অগপ৷ বিজেপি বিরোধী মহাজোটের অংশ হতে অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল কুমার মোহন্ত যে মুহূর্তে কলকাতায় এসে পৌঁছলেন, ঠিক তখনই নিজেরই সরকারে হুঁশিয়ারি দিল অপর শরিক দল বোড়োল্যাল্ড পিপলস ফ্রন্ট৷

অসমের সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী তথা বিপিএফ বিধায়ক প্রমীলা রানি ব্রহ্ম জানিয়ে দিলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী রাজ্যের পক্ষে ঠিক নয়৷ এতে অসমের নিজস্ব জাতিসত্তা ধাক্কা খাবে৷ এর আগে খোদ অসম বিধানসভার স্পিকারও বিলটির বিরুদ্ধে মুখ খুলে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন৷ এবার অন্যতম সরিক দল বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের মন্ত্রী বিরোধিতা করায় রাজ্যের বিজেপি সরকারের চিন্তা বাড়ল৷

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রয়োগ করে ভারতের প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলি থেকে অ-মুসলিমদের সরাসরি নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতায় সরব উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব রাজ্য৷ অভিযোগ, এই বিল আইনে রূপান্তরিত করা হলে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে বহু হিন্দু অসমে ঢুকে পড়বেন৷ এছাড়াও বাংলাদেশে বসবাসকারী অনেক পাহাড়ি উপজাতি জনগোষ্ঠীও ভারতে আশ্রয় নেবে৷ সেটা ঘটতে থাকলে স্থানীয়রা মেনে নেবেন না৷

এই বিল নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে অসমের রাজনীতি৷ একাধিক বিজেপি বিধায়ক সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন৷ তবে অন্যতম শরিক দল বিপিএফ তথা বোড়োল্যান্ডের পক্ষে থাকা আঞ্চলিক দলটি এবার মুখ খুলতে শুরু করল৷ মন্ত্রী প্রমীলা রানি কোকরাঝাড় থেকে নির্বাচিত৷ আর এই এলাকায় বোড়োল্যান্ডের পক্ষে থাকা সংগঠন বিশেষ শক্তিশালী৷

শুধু অসম নয়- মনিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশ৷ বনধ পালিত হয়েছে গত ৮ জানুয়ারি৷ সেই বনধের দিনে ত্রিপুরায় উপজাতিদের উপর পুলিশের গুলি চালানয় সেখানকার রাজনীতিও প্রবল উত্তপ্ত৷ মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা সরাসরি বিজেপি জোট ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন৷ আর অসম জুড়ে চলছে গণবিক্ষোভ৷

সেই রেশ ধরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল বুদ্ধিজীবীদের দেশদ্রোহী তকমায় গ্রেফতারির নির্দেশে আরও জটিল হয়েছে পরিস্থিতি৷ পাল্টা রাজ্যের মন্ত্রী তথা নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আহ্বায়ক ও বিজেপির অন্যতম নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধেও দেশদ্রোহিতার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করে প্রতিবাদীরা৷