স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আবারও বিজেপির উইকেট ফেলতে চলেছে তৃণমূল। বিপ্লব মিত্রর পর এবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’ হচ্ছেন হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে ফেরার কথা। ২০১৮ সালে দিল্লিতে ঘটা করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু দুবছরের মধ্যেই মোহভঙ্গ হল তাঁর।

তৃণমূলে ফেরার ব্যাপারে হুমায়ুন বলেছেন, ‘‘তৃণমূল ছেড়ে ভুল করেছিলাম। পুরনো দলেই ফিরছি। যত দিন রাজনীতি করব, দিদিই আমার নেত্রী। তাঁর কথা মতোই কাজ করব।’’ ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে বহরমপুরের জেলা দফতরে হুমায়ুনের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তৃণমূলে যোগ দেবেন হুমায়ুনের কয়েকজন অনুগামীও।

তবে দলবদল হুমায়ুনের কাছে একেবারেই নতুন নয়। এক সময় বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীর ডান হাত ছিলেন তিনি। কংগ্রেসের টিকিটে জিতে জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। ২০১১ সালে রেজিননগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও কংগ্রেসের টিকিটেই জিতেছিলেন।

২০১২ সালে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। মন্ত্রিত্বের পুরস্কারও মিলেছিল। তবে ঠোঁটকাটা হুমায়ুন দলের তদানীন্তন জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্কে ‘বিরূপ’ মন্তব্য করায় দল তাঁকে ছেঁটে ফেলেছিল। ২০১৬’র বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়ে সামান্য ভোটে হেরে গিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে।

পরের বছরে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরলেও ২০১৮ সালে ফের দল বদলে পা বাড়িয়েছিলেন বিজেপিতে। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি’র প্রার্থীও হয়েছিলেন। কিন্তু এনআরসি নিয়ে দলের সঙ্গে তাঁর গোল বেঁধেছিল। গত বছরই ডিসেম্বর মাসে হুমায়ুন বলেছিলেন, ‘‘যে দলেই থেকেছি মুর্শিদাবাদের মানুষ আমায় ভালবেসে পাশে থেকেছেন। কিন্তু নাগরিকত্ব বিল সেই সব মানুষের স্বার্থে খাঁড়ার মতো নেমে আসছে।

তাই বিজেপি-তে আর থাকব না।’’অবশেষে আগামিকাল সরকারিভাবে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন হুমায়ুন।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা বিপ্লব মিত্র। বিপ্লব ফিরতেই উছ্বসিত তাঁর অনুগামীরা। বিপ্লব, হুমায়ুনের পর বিজেপি ছেড়ে আর কে কে তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’ হয়, সেটাই দেখার।

উল্লেখ্য, বিজেপির ৪ সাংসদ, ১ বিধায়ক ও ২০ জন কাউন্সিলর এক সঙ্গে বিজেপি ভেঙে তৃণমূলে যোগ দেবে। খুব শীঘ্রই সেই দিন আসছে বাংলায়। এমনটাই দাবি করছেন তৃণমূল নেতা- কর্মীরা। যদিও দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের দলে সবাই খাটি রাজনৈতিক কর্মী। আমাদের দল তৃণমূলের মত না যে সিটিং এমএলএ তৃণমূল ছেড়ে দল পরিবর্তন করবে। যারা বিজেপিতে আছে তারা ভালো আছে। একজন বিজেপি সাংসদ কেন, একজন বিজেপি কর্মীও দল ছেড়ে তৃণমূলে যাবে না। মাথা খারাপ না হলে কেউ তৃণমূলে যোগ দেয় না। বিজেপিতে এখন কারুর মাথা খারাপ হয়নি ।”

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও