স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘কলকাতাকে স্বমহিমায় ফেরাতে আপনি ফিরুন শোভনদা’-প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে ব্যানারে রাতারাতি ছেয়ে গিয়েছে প্রায় গোটা দক্ষিণ কলকাতা। বিজেপির প্রতীক ব্যবহার করেই ছাপানো হয়েছে ব্যানার। কিন্তু এই ব্যানার বিজেপি টাঙায়নি বলে দাবি করলেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা ছেয়ে গিয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ব্যানারে। টালিগঞ্জ থেকে এক্সাইড মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের রেলিংয়ে, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রীর বিরাট ছবি-সহ ব্যানার। কোথাও রাস্তার মোড়ে লাইটপোস্টে, কোথাও রাস্তার ডিভাইডারে, কোথাও দুপাশে রেলিংয়ে লাগানো হয়েছে এই পোস্টার। কিন্তু কে এই পোস্টার টাঙাল? তা নিয়েও শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। কলকাতা নাগরিকবৃন্দের নামে দেওয়া সেই পোস্টারে রয়েছে বিজেপির প্রতীক পদ্মফুলের ছবি।সেই সব ব্যানারে বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘‘কলকাতার বেহাল দশাকে পুনরায় স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে আপনি এগিয়ে আসুন শোভনদা।’’ কোনওটিতে আবার বলা হয়েছে, ‘‘অসম্পূর্ণ কলকাতার পৌরসভাকে পুনরায় স্বমহিমায় আনতে ফিরে আসুন শোভনদা।’’

এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ সরাসরি বলেন, “আমার জানা নেই। দলের তরফ এই ব্যানার দেওয়া হয়নি৷ আমিও সংবাদমাধ্যমে, ফেসবুকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম। তাতেই জানলাম। হতে পারে আমাদের কর্মী বা সাধারণ নাগরিকরা করেছেন। শোভনদার প্রতি আহ্বান। শোভনদা সক্রিয় হোক সেটাই সবাই চায়। পার্টির থেকে এটা করা হয়নি। তবে শোভনবাবু এলে ভালোই তো। শোভনদার কাজ সবাই জানে। শোভনদা এলে ফিরহাদ হাকিমকে সমস্যায় পড়তে হবে।”

এই একই দাবি জয়প্রকাশের৷ তিনি বলেন, ‘‘এই ব্যানার আমরা দিইনি৷ তবে কলকাতার মানুষ চাইছেন তিনি ফিরুন৷ এটা তো ঠিকই, ফিরহাদ হাকিমের চেয়ে শোভন দা মেয়র হিসেবে অনেক বেশি দক্ষ৷ সেটা সাধারণ মানুষ জানে৷’’রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ব্যানারের ব্যাপার অস্বীকার করলেও এই ঘটনায় তাদের যে একটা প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে, সেটা বিজেপির শীর্ষ নেতাদের কথাতেই স্পষ্ট৷

তবে বিজেপি শোভনকে মেয়র প্রোজেক্ট করতে চায় কিনা এদিন সে প্রসঙ্গ ফের এড়িয়ে গিয়েছেন দিলীপ-জয়প্রকাশ, দুজনেই৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেছেন, ‘‘বিজেপি কাউকে মুখ করে ভোটে নামে না। জেতার পরে নেতা ঠিক করে বিজেপি।’’ জয়প্রকাশের কথায়, ‘‘আগে তো রাজনীতিতে ফিরুন৷’’ বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শোভনের সঙ্গে তারা এখনও যোগাযোগ করেননি পুরভোটের বিষয়ে। তবে বিজেপি সূত্রে খবর, দলের নেতৃত্বের একটি অংশের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে শোভনের।

তবে এই ব্যানারের ব্যাপারে গেরুয়া শিবিরের কেউ কেউ বলছেন , কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছে না দেখে শোভন চট্টোপাধ্যায় হয়তো নিজেই এই ব্যানার দিয়েছেন!

প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে দুদফায় মোট সাড়ে আট বছর কলকাতার মহানাগরিকের দায়িত্ব সামলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার নাগরিকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় মুখ শোভন। শহরকে নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। কিন্তু, বছর দুয়েক আগে থেকে নানা কারণে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল তাঁর। দীর্ঘ দিন কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকার পর অবশেষে ২০১৯-এর ১৪ অগস্ট আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু দলে যোগ দিয়েও তাঁকে সেভাবে কোনও সক্রিয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এখন সামনে পুরভোট। তাই পুরভোটে তৃণমূলের ফিরহাদের বিরুদ্ধে বিজেপি শোভনকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এ ব্যাপারে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।