স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিউড়ির জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে নির্বাচনী বিধি ভেঙেছে – এই দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য বিজেপি৷ রাজ্য বিজেপির অভিযোগ, ওই জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা যা বলেছেন তা নির্বাচন বিধি ভেঙেছে৷ সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কমিশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷

বিজেপির সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এবং নির্বাচন ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য শিশির বাজোরিয়ার বক্তব্য, বীরভূমের সিউড়িতে ২৫ এপ্রিল অকটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, চমকে, ধমকে নির্বাচন করুন৷ মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্য নির্বাচনী বিধি ভেঙেছে৷ অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের ‘কাটিং’ও নির্বাচন কমিশনে পেশ করেছে বিজেপি৷

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূমের নির্বাচনের ভার অনেকখানি জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের হাতে রয়েছে৷ তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা অনুব্রত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট৷ বীরভূমের ওই মঞ্চ থেকে অনুব্রতকে বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বীরভূমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বীরভূমে সভা করে গিয়েছেন৷ ওই সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছে৷ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও ওই জেলায় সভা করেছেন৷ ওই সভাতেও প্রচুর লোক হয়েছে৷ বিজেপির সভায় প্রচুর লোকসংখ্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অনুব্রত মণ্ডলের চাপ বাড়িয়েছে৷

রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সভায় এত লোকসংখ্যা দেখে অনুব্রত চাপে পড়ে দিয়েছে৷ দিদির কাছে ওর মানসম্মান নেই৷ সেক্ষেত্রে চাপ কাটাতে মানুষকে ও ভোটের আগে বিভিন্ন দাওয়াই দেবে৷ নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে দাওয়াই তত বাড়বে৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা কেন এই কথা বলল বুঝতে পারছি না৷ উনি কী নিজে বুঝতে পারেননি যে এই কথা নির্বাচন বিধি ভাঙবে?’’

লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফা শেষ হয়ে গিয়েছে৷ রাজ্যে মোদী-মমতা দ্বৈরথও তুঙ্গে৷ কিছুদিন আগেই মোদী রাজ্যে সভা করতে এসে বলে গিয়েছেন, ‘‘ওকে চিনতে আমিও ভুল করেছি৷ সাধারণ জনতা তো করবেই৷’’বালুরঘাটের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘বাংলায় মমতা দিদি যা করেছেন, সেই কাজের জন্য এই পৃথিবীর ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না৷ মা মাটি মানুষের নামে জনতাকে ধোকা দিয়েছেন দিদি৷ বাংলার মানুষ অনেক আশা করে কমিউনিস্টদের হাত থেকে বাঁচতে ক্ষমতায় এনেছিল মমতা দিদিকে৷ বাংলার জনতা যে ভুল করেছিল, সেই ভুল আমিও করেছিলাম৷ তখন ওকে দেখে আমার সততার মুর্তি মনে হতো৷ মনে হতো, উনি বাংলার জনতার রক্ষাকর্তা৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর যা দেখলাম, তা দেখে লজ্জায় আমার মাথা নিচু হয়ে গেল৷ যদি প্রধানমন্ত্রী ভুল করতে পারে তবে বাংলার জনতা তো ভুল করবেই৷’’

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মঞ্চে দাঁড়িয়ে আগুনে বক্তব্য রাখছেন৷ যে মমতার আগুনে বক্তব্যের জন্য সারা বাংলায় এককালে পরিচিত ছিলেন তা যেন ফের আবার ঝড়ে পড়ছে তাঁর কন্ঠে৷ বাংলার রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা যেন খুব রেগে গিয়েছেন৷ দূর্নীতি থেকে অনুপ্রবেশ, তোলাবাজি থেকে গণতন্ত্র – তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির রাজনৈতিক মোকাবিলা করতে গিয়ে তিনি মোদীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ আগেই করেছিলেন৷

মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদীর বিরুদ্ধে মমতার রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷ মমতা বলেছেন, কাচাগোল্লা খাওয়ান, মিষ্টি খাওয়ান, চা খাওয়ান, কিন্তু বিজেপিকে ভোট দেবেন না৷ পালটা মমতাকে ‘স্পিডব্রেকার দিদি’ এবং ‘স্টিকার দিদি’ বলেছেন মোদী৷ মোদীর মতে, উন্নয়নে বাধা দিয়ে দিদি এখন বাংলার স্পিডব্রেকার৷ আবার, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে তৃণমূল সরকারের স্টিকার মেরে তিনিই স্টিকার দিদি৷ বিজেপি সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘‘নির্বাচনী বক্তব্যে অনেকেই অনেক কথা বলেন৷ কিন্তু নিজের কর্মীদের হমকি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা৷ একই কাজ করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটের এক মন্ত্রীও৷’’