তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: লাগাতার দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে বাঁকুড়ার বড়জোড়ার গদারডিহি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ সমাবেশ করল বিজেপি। বুধবার কয়েকশো বিজেপি কর্মী সমর্থক ওই পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট প্রধানের কাছে ডেপুটেশন জমা দেন।

বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েত প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে বিলি করেছে। এমনকি একশো দিনের প্রকল্পে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য, সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরণের শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে টালবাহানা, সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের কাছ থেকে জোর করে ‘কাটমানি’ আদায় সহ শৌচাগার তৈরি না করেও সরকারি অনুদান কেউ কেউ পেয়ে গিয়েছেন বলে বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে। যদিও বিজেপির এই দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এদিন পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

ঘেরাও, বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক বাউরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। বেছে বেছে তৃণমূল সমর্থকদের ওই প্রকল্পে যেমন বাড়ি দেওয়া হয়েছে, তেমনি অনেকের কাছ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। একই সঙ্গে পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু গ্রামে ঢালাই রাস্তায় বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ না করে সেই টাকা তৃণমূলের একাংশ পকেটে পুরেছেন বলেও তার দাবি।

বড়জোড়া বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌতম মণ্ডল একশো দিনের কাজ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন৷ বলেন, লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কেউ কোন ধরণের শংসাপত্র নিতে হলে তাকে তা দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি স্থানীয় জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন কোন চিকিৎসক নেই। পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে বেহাল। পঞ্চায়েত প্রধান আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আর তা না হলে তারা ব্লক থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত আন্দোলন তীব্র করবেন বলবেন বলে তিনি জানান।

বিজেপির পক্ষ থেকে তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক তৃণমূল। দলের বড়জোড়া নেতৃত্বের তরফে অলক মুখোপাধ্যায় বলেন, এই কথার কোন ভিত্তি নেই। বাড়ি তৈরির টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যায়। প্রধান-উপপ্রধানকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রে একশো দিনের প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছে৷ তাই আমরা কাজ করাতে ভয় পাচ্ছি। প্রধান, উপপ্রধান সহ অন্যান্য পঞ্চায়েত কর্মীরা মানুষের সঙ্গে যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করেন। এরপরেও কোন সমস্যা হলে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।