কলকাতা:  এনআরএস হাসপাতালে কোনও পুলিশ পিকেটিং ছিল না। আর তা না থাকার জন্যে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের সময় এভাবে সরকারি হাসপাতাল থেকে পুলিশ পিকেটিং তুলে নেওয়ার বিষয়ে নাকি স্বরাষ্ট্রদফতরকেও জানানো হয়নি। এমনই মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর এই অভিযোগ কতটা সত্যি এবার তা জানতে চাইল বিজেপি। আর এই ব্যাপারেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি দিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।

বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার ও শিশির বাজোরিয়া রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। পরে জয়প্রকাশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। কারণ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উনি যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য বিজেপি নেতার। শুধু তাই নয়, জয়প্রকাশ মজুমদার এই প্রসঙ্গে আরও জানিয়েছেন যে, নির্বাচনী আচরণ বিধি চালু হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশন অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার ক্ষেত্রে কখনও নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার করে না। যদি তা করা হয়, তা হলে বিষয়টি রাজ্যের নোডাল অফিসারের নজরে আনা হয় বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।

তাঁর আরও দাবি যে, এই বারের লোকসভা ভোটে রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি(আইনশৃঙ্খলা) সিদ্ধিনাথ গুপ্তা ও কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি (ওয়ান) জাভেদ শামিম নোডাল অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে পুলিশ পিকেটিং প্রত্যাহার নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার সত্যতা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি লিখিত ভাবে এই বিষয়ে জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন জয়প্রকাশ মজুমদার।

উল্লেখ্য, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি চালাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এনআরএস-কান্ডে আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে। এমনকি দেশেও শুরু হয়েছে ডাক্তারদের বিক্ষোভ। এই অবস্থায় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, সমস্ত সরকারি হাসপাতালগুলিতে পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সমস্ত পুলিশ পিকেট তুলে নেয় ভোটের সময়। প্রায় চার-পাঁচ মাস যেহেতু আচরণ বিধি লাঘু ছিল সেজন্যে তিনিও এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই বিষয়টির সত্যতা নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।