স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী না থাকলে বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে গণতন্ত্র। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই তৃণমূলকে মুছে ফেলতে নারাজ বিজেপি। এমনই মন্তব্য করেছেন বিজেপির বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে সমগ্র দেশে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র। একদা তৃণমূলের দাপুটে নেতা এবং দুর্দিনের সৈনিক অর্জুন সিং ভোটের মুখে যোগদান করেন পদ্ম শিবিরে। এবং তাঁকেই প্রার্থি করে বিজেপি। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রেস্টিজ ফাইটে তৃণমূল প্রার্থীকে পরাস্ত করেন অর্জুন।

আরও পড়ুন- ‘দিদিমণির বাজার শেষ’, মমতা কটাক্ষ অর্জুনের

তারপর থেকেই বারাকপুরের একাধিক পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে বিজেপি। একই দিনে কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, ভাটপাড়া এবং নৈহাটি পুরসভা যায় বিজেপির দখলে। চলতি সপ্তাহের সোমবার গারুলিয়া পুরসভার দখল নিয়েছে পদ্ম শিবির। ওই পুরসভার চেয়ারম্যান তথা নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় নোয়াপাড়া বিধানসভাতেও ফুটেছে পদ্ম। এর আগে বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন- ‘অভিষেক আর সিন্ডিকেটের জন্য তৃণমূল ছেড়েছি’, বিস্ফোরক সুনীল সিং

এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে সোমবারেই বারাকপুরে সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্রের হাত ধরে সহসস্রাধিক মহিলা পদ্মের পতাকাতলে আসেন। এদের মধ্যে তৃণমূল, বাম এবং কংগ্রেস ছেড়ে আসা অনেক মহিলা রয়েছে বলে জানান ফাল্গুনীদেবী। তার মতে, “রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন মানুষ। সেই কারণেই সবাই দলমত নির্বিশেষে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।”

তৃণমূলকে মুছে ফেলতে নারাজ বারাকপুর বিজেপির সভানেত্রী

তৃণমূলকে মুছে ফেলতে নারাজ বারাকপুর বিজেপির সভানেত্রীhttps://www.kolkata24x7.com/bjp-district-president-dont-want-opposition-free-govt.html

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले मंगळवार, १८ जून, २०१९

এই ধারা চলতে থাকলে অচিরেই বিরোধী শূন্য হয়ে যেতে পারে রাজ্য। তেমনই কী পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি? এই প্রশ্নের উত্তরে বারাকপুরের সভানেত্রী ফাল্গুনি পাত্র বলেছেন, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা জানি গণতন্ত্রে বিরোধী গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তৃণমূলের উপরে ক্ষোভ থেকে সবাই বিজেপিতে চলে আসতে চাইলে তার দায় তো আমাদের নয়।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “আমরা চাই তৃণমূল কংগ্রেস থাকুক এবং অন্যান্য সকল বিরোধী দল থাকুক।”

আরও পড়ুন- তৃণমূল ছাড়লেন সুনীল সিং, গারুলিয়া পুরসভা দখলের পথে বিজেপি

যাদের বিরুদ্ধে একসময়ে লড়াই করেছিলেন তারাই এখন বিজেপি শিবিরে নাম লেখাচ্ছে। এই বিষয়ে বারাকপুর বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে কাউন্সিলর, বিধায়ক এবং সাংসদ। সকল স্তরের জনপ্রতিনিধি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরেও ক্ষোভ রয়েছে। নিচু তলার কর্মীদের অনেকেই দলের মধ্যে কোণ্নঠাসা হয়ে গিয়েছে বলেও উঠেছে অভিযোগ। এই বিষয়ে সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র বলেছেন, “যারা এসেছে সবাইকে স্বাগত। তবে আমাদের দলে গণতন্ত্র আছে। সেই গণতন্ত্র মেনেই দল চলবে। এবং সবাইকে চলতে হবে।”