স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি এবং বিজেপির মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দিলীপ ঘোষের কনভয়ের উপর হামলার অন্তর্তদন্ত শুরু করেছে বিজেপি৷ দিলীপ ঘোষের সঙ্গে একই কনভয়ে ছিলেন অসমের অর্থমন্ত্রী তথা সে রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার অন্যতম কারিগর হিমন্ত বিশ্বশর্মা৷

গেরুয়া শিবিরের অন্তর্তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ঘটনাটির পিছনে ছিলেন শাসক দলের এক বিধায়ক৷ ওই বিধায়ক এবং তাঁর দলবল বিজেপি নেতা-কর্মীদের গুন্ডাবাহিনী কাজে লাগিয়ে মারধর করেছে৷ বিজেপির সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এবং নির্বাচন ম্যানেজমেন্ট কমিটি সদস্য শিশির বাজোরিয়া বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে জানিয়েছে, ‘‘সমস্ত অভিযুক্তদের বিশেষ করে ওই বিধায়ক রণজিত মণ্ডলকে গ্রেফতার করতে হবে৷’’ সমস্ত ঘটনাটি জানানো হয়েছে বাংলায় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবেকেও৷

বিজেপি সূত্রে খবর, ওইদিন খেজুরি থানার অন্তর্গত তাল্লা থেকে কুঞ্জপুরে একটি রোড-শো ছিল৷ দিলীপ ঘোষ এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মা ওই রোড-শো’তে অংশগ্রহণ করেন৷ বিকেল ৫টা ৪৫ নাগাদ কুঞ্জপুরে হামলা চালায় তৃণমূল৷ ওই সময় ওই এলাকায় কিছু যানবাহন দাঁড়িয়েছিল৷ ওই যানবাহনগুলি রোড-শোতে অংশগ্রহণ করবে বলেই সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল৷

তৃণমূলেও স্থানীয় ওই বিধায়কের নেতৃত্বে দুষ্কৃতিরা সেখানে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়৷ ওই বিধায়কের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী নিজের আগ্নেয়াস্ত্র বার করে হামলায় অংশ নেয়৷ বিজেপি নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন অধিকারিককে যে চিঠি লিখেছে, সেখানে অভিযোগ জানানো হয়েছে, কাঁথির বিজেপি প্রার্থী ড. দেবাশিস সামন্তকেো তৃণমূল বাহিনী মারধর করেছে৷

রোড-শো’য়ের জন্য মূল মিছিলটি তেখালি ব্রিজের উপর দিয়ে তেঁতুলিয়াতে পৌঁছায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময়৷ ওই মিছিলের উপরে ‘কাশ্মীরের মতো’ পাথর বৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে৷ অন্যন্য অস্ত্রও ওই হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে জানিয়েছে বিজেপি৷ অনেক গাড়িও ভাঙা হয়েছে৷

এরপর নেতাদের গাড়ি আক্রমণ হয় রাত ৮টা নাগাদ ভেড়িয়াতে পৌছানোর ঠিক আগে৷ বিজেপি কর্মীদেরও বেধরক মারা হয়৷ পুলিশ দুই-আড়াই ঘন্টা ধরে চলা সমস্ত ঘটনা দেখলেও কিছুই করেনি৷ তৃণমূলের সসস্ত্র বাহিনী থানা ঘেরাও করে দাড়িয়েছিল৷ বিজেপি থানায় গিয়ে অভিযোগ লেখাতে পারেনি৷ পুলিশকে ফোনেও পাওয়া যায়নি৷ বিজেপির নেতারা হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে থাসপাতাল থেকে থানায় ফোন করা হয়৷ পুলিশকে বলা হয় অভিযোগ সরকারি ভাবে জমা নিতে হবে৷ কিন্তু পুলিশ হাসপাতালে আসেনি৷