নাগপুর: মহারাষ্ট্রে ফের ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে৷ এবার হাতছাড়া আরও ৪ জেলা পরিষদ৷ নাগপুর জেলা পরিষদের ৫৮টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের ঝুলিতে ৩০টি আসন৷ ১৫টি আসনে জিতেছেনে বিজেপি প্রার্থীরা৷ রাজ্যের শাসনভার চলে যাওয়ার পর এবার আরও ৪ জেলা পরিষদ হাতছাড়া হল বিজেপির৷

মারাঠাভূমে একের পর এক ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে৷ নাগপুর জেলা পরিষদ হাতছাড়া হল বিজেপির৷ মোদী-শাহের দলকে হারিয়ে জেলা পরিষদ দখল করেছে কংগ্রেস-এনসিপি জোট৷ নাগপুর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের গড় হিসেবেই পরিচিত। এছাড়া নাগপুরেই রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দফতর। আর তাই নাগপুরের মতো জায়গায় পদ্ম শিবিরের এই ধাক্কা রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির পক্ষে খারাপ সংকেত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

নাগপুরের পাশাপাশি বিজেপি ধরাশায়ী হয়েছে পালঘর, নন্দুবার এবং ওয়াসিম জেলা থেকে৷ প্রায় ধুয়েমুছে গিয়েছে গেরুয়া শিবির৷ মহারাষ্ট্রের ৬টি জেলা পরিষদের ৩৩২টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ১০৩টি আসন৷ কংগ্রেস ৭৩টি এবং এনসিপি ৪৬টি আসনে জিতেছে৷ অন্যদিকে, শিবসেনা জিতেছে ৪৯টি আসনে। ভিবিএ পেয়েছে ৪২টি আসন৷ নির্দল এবং অন্যরা ১৪টি আসনে জয়লাভ করেছে৷

মহারাষ্ট্রের মধ্যে নাগপুরকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল৷ নাগপুর জেলা পরিষদের মোট ৫৮টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস একাই ৩০টি আসনে জয়লাভ করেছে। কংগ্রেসের শরিক দল এনসিপি পেয়েছে ১০টি আসন। অন্যদিকে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে মাত্র ১৫টি আসন৷

মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের পর থেকেই মারাঠাভূমে একের পর এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল৷ দীর্ঘদিনের সঙ্গী শিবসেনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিযে প্রবল দর কষকষি চলে বিজেপির৷ শেষমেশ জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায় শিবসেনা৷ অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে রয়েছে জানিয়ে প্রথমে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের কাছে সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীশ৷ তবে শেষমেশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী৷ অন্যদিকে, কংগ্রেস-এনসিপি ও শিবসেনা দফায় দফায় বৈঠকের পর জোট গড়ে৷ প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড়ের পর রাজ্যপালের কাছে সেই জোট সরকার গড়ার দাবি জানায়৷ অবশেষে বিজেপিকে সরিয়ে মহারাষ্ট্রে সেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি জোট সরকার গড়ে৷ নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে৷