স্টাফ রিপোর্টার, ব্যারাকপুর: ভাটপাড়ায় এক মহিলা বিজেপি কাউন্সিলরের উপর রাতের অন্ধকারে ব্যাপক লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠল ভাটপাড়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ভাটপাড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর গীতা দেবী যাদবকে পুলিশ লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ। ওই মহিলা কাউন্সিলর বলেন, তাঁকে কোন মহিলা পুলিশ মারেনি, মেরেছে পুরুষ পুলিশ কর্মীরা।

গীতা দেবীর বক্তব্য, “মঙ্গলবার রাতে ভাটপাড়া পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় দুষ্কৃতীরা ব্যাপক বোমাবাজি চলছিল। আমার বাড়িতে ওই দুষ্কৃতীরা ৫ টি বোমা ছোঁড়ে। তিনটি বোমা ফাটলেও দুটি বোমা ফাটেনি। আমাদের খাটালের ব্যবসা আছে। বাধ্য হয়ে আমার স্বামী সুরেন্দ্র যাদব ঘরের বাইরে বেরোয়। সেই সময় পুলিশ টহল দিতে দিতে আমার বাড়িতে ঢোকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা আমার স্বামী ও দেওরকে ঘরের সামনে ফেলে লাঠি পেটা করে। আমি ঘরে চীৎকার করতে শুরু করি। তখন পুলিশ আমার ঘরে ঢুকে আমাকে টেনে হিচড়ে ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে যায়। আমাকে আমার স্বামীর সামনে লাঠি দিয়ে মারে, লাথি মারা হয় আমার তলপেটে।”

তাঁর অভিযোগ, কোনও মহিলা পুলিশ ছিল না। যারা মেরেছে তারা সবাই পুরুষ পুলিশ। যারা আমার বাড়িতে বোমা ফেলল, তাদের পুলিশ গ্রেফতার না করে তাঁকে কেন ঘরে ঢুকে মারল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি বলেন, ”আমি বিজেপি কাউন্সিলর শুনে আরও বেশি মারল আমাকে। পুলিশরা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছিল, আমি বিজেপি পার্টি করি আমাকে ওরা গুলি করে মারবে।”

বুধবার সকালে ওই বিজেপি কাউন্সিলরের বাড়ির উঠান থেকে দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া তাজা বোমা উদ্ধার হয়। এদিকে মঙ্গলবার রাতে ভাটপাড়া পুরসভার কলাবাগান এলাকায় দুষ্কৃতীদের বোমাবাজির মধ্যে পড়ে এক পুলিশকর্মী সহ তিনজন সাধারন মানুষ মারাত্মক জখম হয়। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারাকে তোয়াক্কা না করেই দুষ্কৃতীরা এলাকায় বোমাবাজি শুরু করে। এই ঘটনায় জখম হন পুরুলিয়া থেকে ভাটপাড়ায় ডিউটি করতে আসা এ এস আই দেবদীপ মুখোপাধ্যায়। তার হাতে বোমার স্প্লিন্টার লাগে। মারাত্মক জখম হন তিনি। তার সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং ব্যারাকপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা গিয়েছে, ওই পুলিশকর্মীর হাতে ১৬ টি সেলাই পড়েছে। এদিকে এই বোমাবাজির ঘটনায় আরও দুজনের চোট লেগেছিল, তাদের পুলিশ ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে তিন চার জন দুষ্কৃতী ভাটপাড়ার ১ নম্বর গলিতে বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের ওই এলাকায় বোমাবাজি করতে নিষেধ করে মহম্মদ নাঈম ও মহম্মদ আক্রম। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ওই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও বুধবার সকালে ওই দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় প্রতিবাদী নঈম ও আক্রমের বাড়িতে। সেখানে তাদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা।

এদিকে ভাটপাড়া এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে চরম অশান্তি সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করার দাবিতে বুধবার সকালে ও দীর্ঘক্ষণ ঘোষপাড়া রোড পথ অবরোধ করে স্থানীয়রা। ঘোষপাড়া রোডের অ্যাংলো ইন্ডিয়া জুট মিলের সামনে চলে অবরোধ। পরে পুলিশ গিয়ে ওই অবরোধকারীদের হঠিয়ে দেয়। এদিকে বুধবার ও ভাটপাড়া এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট, বাজার বন্ধ ছিল, বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ছিল না বললেই চলে। এলাকার বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বাইরে বেরতে ভয় পাচ্ছেন।

এদিন ভাটপাড়া পুরসভায় সাংবাদিক বৈঠক করে ভাটপাড়া পুরসভার পুরপ্রধান সৌরভ সিং বলেন, “এখানে প্রকৃত অপরাধীদের পুলিশ আড়াল করছে। মানুষের ও মহিলাদের নিরাপত্তা নেই এই এলাকায়। কুখ্যাত দুষ্কৃতী সাহেব, রাজু হিটার, সোমনাথ শ্যামদের গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ, ওরা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়। পুলিশ ওদের গ্রেফতার করেনি। ওরাই এলাকায় অশান্তি করছে। ওরা সবাই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও ফিরহাদ হাকিমের লোক। তৃণমূলের ওই নেতাদের উস্কানিতে ভাটপাড়া শহর অশান্ত হয়ে আছে। ওই দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার হলে ভাটপাড়া শান্ত হয়ে যাবে।” পুলিশ বুধবার দিনভর গোটা ভাটপাড়া শহরে টহলদারি অভিযান চালিয়েছে।