আমেদাবাদ: ভোটে বিপুল আসনে জয়ের পর প্রথমবার গুজরাতে যান মোদী-অমিত শাহ। রবিবার সেই সভা থেকেও তাঁদের মুখে শোনা গেল বাংলার কথা। সেখান থেকেও পশ্চিমবঙ্গকে বার্তা দিতে চেয়েছেন তাঁরা।

এদিন আমেদাবাদের সভা থেকে জনতার উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, ‘এত জোরে জয় শ্রী রাম বলুন, যেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে শোনা যায়।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি নিয়ে আপত্তির বিষয়টা সামনে এসেছে ভোটের মাঝেই। শুরু হয় বিতর্কও। তাই মমতার বাংলায় গেরুয়া শিবিরের আসন বাড়ার পর এবার সেই ধ্বনিই মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছে দিতে চাইছেন অমিত শাহ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট প্রচারে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ির সামনে কেউ ‘জয় শ্রী রাম’ বলে চীৎকার করেছিল, আর তাতেই গাড়ি থেকে নেমে আসেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়।

এরপর থেকে মোদী এরাজ্যে প্রচারে সেই প্রসঙ্গ তুলেছেন বারবার। জয় শ্রী রাম ধ্বনিতে দিদির এত রাগ কেন? সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, মমতার ওই ভিডিও বিজেপির ভোট বাড়ার জন্য অনেকটাই দায়ী।

পশ্চিমবঙ্গের কথা শোনা গিয়েছে মোদীর মুখেও। মোদী তুলেছেন রায়গঞ্জের রিনা সাহার কথা। এই গৃহবধূর হিন্দি টিভি সাক্ষাৎকার ইতিমধ্যেই ভাইরাল। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘২২ দিন গুজরাত ঘুরকে আয়া হ্যায়। গুজরাত মে বিকাশ হুয়া হ্যায় মানে স্বর্গ হুয়া হ্যায়! মোদী সরকারনেই তো করতা হ্যায়। কাজেই মোদী সরকারকে হাম সাপোর্ট করতা হ্যায়।’’

রিনাদেবী এ-ও বলেছিলেন, বাংলায় গুজরাতের মতো ‘স্বর্গ’ তৈরি হতে একশো বছর লাগবে। কারণ এই রাজ্যে সরকারের টাকা নেতারা ‘খেয়ে নেন’। এদিন মোদী বলেন, ‘‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার এক বয়স্কা বোনের সাক্ষাৎকার দেখেছি। ‘মোদী মোদী’ করে বাংলায় কথা বলছিলেন। বললেন, ‘আমি গুজরাতে গিয়েছি। দেখেছি স্বর্গ হয়েছে, স্বর্গ!’

উল্লেখ্য, বাংলায় ১৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি। গতবারে ২টি আসন পেয়েছিল। এই আশাতীত ফলের পর আপাতত সামনে বিধানসভা নির্বাচনকে পাখীর চোখ করেছে গেরুয়া শিবির।