হাওড়া: প্রার্থী তালিকা প্রকাশে দেরি হয়েছে৷ কিন্তু প্রচারে নামতে দেরি নেই প্রার্থীদের৷ মঙ্গলবার বিজেপির পক্ষ থেকে হাওড়ার প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে৷ তাই আর সময় নষ্ট না করে গরমকে উপেক্ষা করে প্রচারে নেমে পড়েছেন হাওড়া সদর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত৷

বুধবার সকালে শীতলা মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচারের প্রথম দিনটি শুরু করেন রন্তিদেব বাবু৷ পুজো সেরে তিনি সোজা পৌঁছে যান বিজেপির সদর কার্যালয়ে৷ সেখানে প্রথমে দলীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ তারপর ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি৷ বিজেপি প্রার্থীকে প্রদীপ জ্বেলে মালা পরিয়ে বরণ করে নেন দলের মহিলা মোর্চার সদস্যরা৷ সব শেষে সাংবাদিক বৈঠক শেষ করে তিনি নেমে পড়েন প্রচারের ময়দানে৷

পার্টি অফিসের সামনে থেকে প্রচার শুরু করেন তিনি৷ পঞ্চাননতলা রোড, দেশপ্রাণ শাসমল রোড ধরে পায়ে হেঁটে প্রচার করেন বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘‘কারও বিরুদ্ধে কুৎসা নয়। আমাকে হাওড়ার মানুষ আশীর্বাদ করা মানে নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করা। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। নরেন্দ্র মোদী যদি ভবিষ্যতে আরও অনেক বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকেন, তাহলে দেশ যেমন উন্নতির পথে যেতে পারবে৷ তেমনই ভারতের অখণ্ডতা সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে। এই লড়াই হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর জন্য লড়াই।’’

রন্তিদেব বাবু আরও বলেন, ‘‘হাওড়ার ভোটে আমাকে জয়যুক্ত করা মানে আমাকে জেতালেন না, জেতালেন নরেন্দ্র মোদীকে৷ হাওড়ার মানুষের কাছে আমি এটাই আবেদন করব আপনারা এই ভোটটা আমাকে নয়, দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদীকে। ফলে ভোটটা দেওয়ার সময় সেটা মনে রাখবেন। গত ৭-৮ বছরে দেখেছেন কিভাবে এই রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে। শিক্ষায়, আইনশৃঙ্খলায় থেকে শুরু করে বিরোধী কর্মীদের এখানে মর্যাদা দেওয়া হয়নি। সভা সমিতি করতে দেওয়া হয়নি।’’

তাঁর মতে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে। সর্বত্র মাত্রা ছাড়া দুর্নীতি। পশ্চিমবঙ্গ আমাদের কাছে গর্বের জায়গা ছিল। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লড়াই হাওড়া থেকেই শুরু হোক। এজন্যই হাওড়ায় আসা। আজকে থেকেই প্রচার শুরু করছি। আগামীকাল থেকে পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়ব। ভোটের ফলাফল যাই হোক হাওড়ার মানুষ আমাকে সুখে দুঃখে সবসময় পাবেন।

বিজেপি প্রার্থীর কথায়, হাওড়ার গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এখানে আমি কোনও ব্যক্তিগত কুৎসা করে রাজনীতি করতে আসিনি। এই লড়াই আমার কাছে আদর্শের লড়াই। একটা মতাদর্শের লড়াই। এটা জাতীয়তাবাদ পুনরুদ্ধারের লড়াই৷ আদর্শগত লড়াই। কোনও ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে আমার লড়াই নয়। এখানে আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল। কারণ সিপিএম এবং কংগ্রেস এই মুহূর্তে এই রাজ্যে অবান্তর। আমরা আজকে থেকেই প্রচারে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ব। জেলা নেতৃত্ব ঠিক করবেন প্রচারে কারা আসবেন।

তিনি জানান, হাওড়ায় জলের সমস্যা রয়েছে। শিল্পাঞ্চলগুলি নষ্ট হয়েছে। সেই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করব। হাওড়াকে সমৃদ্ধ আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবরকম চেষ্টা করব। সাংসদ হিসেবে প্রসূন বাবু তাঁর প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন কিনা সেটা হাওড়ার মানুষ বিচার করবেন।