স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ভোট আসলেই নেতা নেত্রীদের দেখা যায় সাঁইবাড়িতে৷ এবারও লোকসভা ভোটে তার অন্যথা হল না৷ সোমবার বাংলা নববর্ষের সকালে সাঁইবাড়ির শহীদ বেদিতে মালা দেন বিজেপির বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনের প্রার্থী সুরেন্দ্রজিৎ সিং আলুওয়ালিয়া৷

আরও পড়ুন- নিরাপত্তার দাবিতে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনিক ভবনে বিক্ষোভ ভোট কর্মীদের

নববর্ষের সকালে বর্ধমানে প্রচারে বের হন বিজেপি প্রার্থী এস এস আলুওয়ালিয়া৷ প্রথমে তিনি বর্ধমান শহরের বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দিলেন৷ তারপর সোজা চলে যান বর্ধমানের প্রতাপেশ্বর শিবতলা লেনের সাঁইবাড়ি৷

বিগত ৪৯ বছর পর পা রাখলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আলুওয়ালিয়া৷ ঐতিহাসিক সাঁইবাড়ির শহীদ বেদিতে মালা দিয়ে প্রণাম করেন শহীদদের৷ সঙ্গে ছিল তাঁর স্ত্রী মণিকা আলুওয়ালিয়া৷ আর এই ঘটনায় ফের একবার বর্ধমানবাসীসহ রাজ্যের মানুষকে মনে করিয়ে দিল সাঁইবাড়ির হত্যা কাণ্ড৷

সাঁইবাড়িতে দাঁড়িয়ে এদিন তিনি বলেন, ১৯৭০ সালে যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনা যেন আর কোথাও না ঘটে। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি দেশ থেকে হিংসা দূর হোক। শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক সকলের মনে। তিনি আরও বলেন, ১৯৬৯ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত সন্ত্রাসের রাজনীতি হয়েছে।

কিন্তু সেই সন্ত্রাসের রাজনীতি আবার চলছে রাজ্যে৷ সাঁইবাড়ির ঘটনার সময় আসানসোল থেকে এই সাঁইবাড়িতে এসেছিলাম। এদিন তিনি সাঁইবাড়ির ছেলে বিজয় সাঁই-এর সঙ্গেও কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালে ১৭ মার্চ বর্ধমানের সাঁইবাড়ির বাড়িতে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যা কাণ্ড৷ বাড়ি ঢুকে পরিবারের দুই ভাই মলয় ও প্রণব সাঁই এবং গৃহশিক্ষক জিতেন রায়কে খুন করা হয়েছিল। এখানেই শেষ নয় অভিযোগ, ছেলেদের রক্তমাখা ভাত জোর করে খাওয়ানো হয়েছিল মা মৃগনয়না সাঁইকে৷ এই ঘটনার কয়েকমাস বাদেই গুণমণি রায় খুন হয়েছিলেন, উখড়ায় ভবানি শর্মা, কাটোয়ায় সুব্রতকে খুন করা হয়েছিল। অভিযোগ, সিপিএমের রাজ্যস্তরের একাধিক নেতা এই ঘটনায় অভিযুক্ত।