তিমিরকান্তি পতি,বাঁকুড়া: ‘‘সুব্রতদা, আপনি কেন অত কষ্ট করবেন? আজকের বিজেপির এই মিছিল দেখে সে সিদ্ধান্ত নিন’’। রবিবাসরীয় প্রচারে বেরিয়ে এভাবেই বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির ডাঃ সুভাষ সরকার। তিনি আরও বলেন, ‘‘গতকাল তৃণমূল প্রার্থী মটগোদা এসেছিলেন। দু’শো জন লোকও হয়নি, কিন্তু এদিন এই এলাকায় বিজেপির মিছিলে পাঁচ থেকে ছ’হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে ডাঃ সুভাষ সরকার দাবি করেন।

শাসক তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করে বিজেপি প্রার্থী বলেন, ‘‘একই ব্লকে দুই প্রার্থীর প্রচারে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বলে দিচ্ছে জনসমর্থন কার দিকে রয়েছে।’’ আগামী ২৩ মে ভোট গণণার দিন শেষ হাসি কে হাসবে, জঙ্গল মহলের মানুষের জনসমর্থন সেকথাই প্রমাণ করছে বলেও এদিন তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনী প্রচারে বহুচর্চিত সারদা-নারদা নিয়ে সিপিএম প্রচারে ঝড় তুলছে। কিন্তু এবিষয়ে আপনি স্পিকটি নট্! কি বলবেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, ‘‘সারদার জন্ম সিপিএমের আমলে, আর এই নাটুকে ঝড়ের কোন মানে হয় না৷ আমরা যা করার তাই করছি, সারদা-নারদার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তরা শাস্তি পাবেই, এবিষয়ে যে জায়গায় বলার আমরা সেখানে বলেছি৷’’

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি। এক সময়ের লাল দূর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিনত হয়। তার ফলশ্রুতিতেই ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকার তালডাংরা, রাইপুর ও রানীবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্র সিপিএমের হাতছাড়া হয়। পরে ২০১৮ তে আবারও ছন্দপতন। পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই বিজেপি শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে।

তার ফলশ্রুতিতেই বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি। এই ঘটনায় উজ্জীবিত পদ্ম শিবির লোকসভা ভোটে জঙ্গল মহলের ভোটটকে পাখির চোখ করে প্রচারে ঝড় তুলতে শুরু করেছে। এমনটাই মনে করছেন জেলা রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার এদিন জঙ্গলমহলের পিরলগাড়ি মোড় থেকে হুড খোলা গাড়িতে অসংখ্য কর্মী সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মিছিল শুরু করেন। পরে রাইপুরের মটগোদা, শ্যামসুন্দরপুর, ফুলকুসমা, মেলেড়া, ঢেকো, মণ্ডলকূলী এলাকায় তাঁর নির্বাচনী প্রচার চালান।