দেবময় ঘোষ, কলকাতা: এবারে দুর্গাপুজোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য বিজেপি। আশ্বিন মাসের আগেই রাজ্যে শারদোৎসবের ময়দানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াইয়ের শক্ত জমি তৈরি রাখতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেই জন্য, রাজ্যের দিকে দিকে উল্লেখযোগ্য দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ‘পাখির চোখ’ করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব বা দুর্গাপুজো কমিটিগুলি শাসক দলের স্থানীয় নেতা বা কোনও মন্ত্রী কিংবা সংসদ-বিধায়ক পরিবৃত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে দুর্গাপুজোকে জনসংযোগের হাতিয়ার বানাতে শাসক দলের একাধিপত্য খর্ব করতে উঠেপড়ে লেগেছেন বিজেপি নেতারা। সম্প্রতি দিল্লির বৈঠকেও বঙ্গ বিজেপি নেতাদের বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দুর্গাপূজায় তৃণমূলের একাধিপত্য ভেঙে দিতে হবে।

বঙ্গ রাজনীতিকে দুর্গা পুজোর গুরুত্ব কম নয়। এককালে, বাম রাজনৈতিক দলগুলো পুজো মণ্ডপের বাইরে প্যান্ডেল বেঁধে বই বিক্রি করত। এখনও বুকস্টলের রেওয়াজ আছে। গত বছরের দুর্গা পুজোতেও বিভিন্ন জায়গায় বাম বুকস্টল দেখা গিয়েছে। কংগ্রেস-তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য সরাসরি দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা হিসাবে বরাবরই নেমে পড়ে। বিজেপি দুর্গাপুজোর ময়দানে শাসকদলকে বেগ দিতে পরিকল্পনা সেরে ফেলেছে। কারণটা পরিষ্কার, লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বারবার অভিযোগ করে গিয়েছেন, রাজ্যে দুর্গাপুজো, কালীপূজা, সরস্বতী পুজো হতে পারছে না। দুর্গাপুজোর ভাসান আটকানো হচ্ছে।

পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিদ্বজ্জনেদের বিস্ফোরক চিঠি

আপাতত যা খবর, বিভিন্ন পুজো কমিতিগুলির আবেদনের ভিত্তিতে নেতারা পুজোয় যোগ দেবেন। যে ১৮ টি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে, সেখানকার সিংহ ভাগ পুজোই নিয়ন্ত্রণ করবে বিজেপি। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুজো করেন, সেই পুজো থেকে দূরেই থাকবে পার্টি। বিজেপি নেতাদের কথায় স্পষ্ট, যে পার্টি পুজোআর্চায় বিশ্বাস করে তারা পুজো থেকে দূরে থাকবে না। তবে প্রত্যেক পার্টির নেতা ব্যক্তিগত ভাবে পুজোয় যোগ দিতে পারেন। কিন্তু, পার্টির নেতা হিসেবে পুজোয় যোগ দিতে পারবেন না।

রাজ্য বিজেপিতে আলোচিত হয়েছে, নেতারা কি শুধুই রাজনীতি করবেন? তাদের কোনও সামাজিক ভূমিকা থাকবে না। কোনও পুজো কমিটি বা সংস্থা সম্মান জানিয়ে কমিটিতে জায়গা দিলে অবশ্যই যাওয়া উচিত। তবে ওই নেতাকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন তাঁকে ব্যবহার করে কমিটি কোনও দুর্নীতিমূলক কাজ না করে। ইতিমধ্যেই সাংসদসহ বিভিন্ন নেতাদের কাছে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির ‘চিফ পেট্রন’ হওয়ার আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছে। কিছু কমিটি পার্টির থেকে আর্থিক অনুদানও চায়। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলের কোনও নেতা ব্যক্তিগতস্তরে কোনো পুজো কমিটিকে সাহায্য করতে চাইলে করতেই পারেন। তবে দেখতে হবে, নেতারা যেন ব্যবহৃত না হয়ে যান। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার যে বিজেপি নেতারা শুধু রাজনীতিই করবেন না, সামাজিক বিষয়েও তাঁদের ভূমিকা থাকবে। পুজো কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রচুর আবেদন ইতিমিধ্যেই আমাদের কাছে আসছে। মানুষ ভালোবেসে চাইছে। আগেও আমরা যুক্ত থাকতাম। এবারে মুখ্য ভূমিকায় থাকবো। কিন্তু একটু সাবধানে।”

ফাইল ছবি

রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, পুজোতে যারা রাজনীতি খোঁজেন তারা আর যাই হোক সজ্জন নন৷ দুর্গাপূজো বাংলার উৎসব শুধু নয়, ‘সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উৎসব৷ সারা বছর ধরে বাংলার মানুষ এই উৎসবের দিকে তাকিয়ে থাকেন আনন্দে গা ভাসিয়ে দেবেন বলে৷ সেখানে এই ধরণের রাজনীতির খেলা যারা খেলতে ভালোবাসেন, ভবিষ্যতে তারা বাংলার জনতাকে উত্তর দিতে তৈরি থাকবেন৷আমি নিজে দুর্গাপূজোর আয়োজক নই কিন্তু ছোটবেলা কালীপুজো করি এবং অনেক দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছিল৷ রাজনীতি করি বলে নয়, মানুষের ভালোবাসার টানেই যুক্ত রয়েছি৷’