তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন ঘিরে ফের ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁকুড়ায়। এবার দলের খাতড়া মহকুমা এলাকার হীড়বাঁধ মণ্ডল সভাপতি গোপাল হেমব্রমকে সরানোর দাবীতে আন্দোলন শুরু করলেন ওই এলাকার বিজেপি নেতা কর্মীরা। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া শহরে মিছিলের পাশাপাশি বিজেপি সাংসদ কার্যালয়ের সামনে ‘দূর্ণীতিগ্রস্ত’ মণ্ডল সভাপতির দ্রুত অপসারণ দাবী করে বিক্ষোভ দেখান।

আন্দোলনরত বিজেপি নেতা কর্মীদের দাবী, মণ্ডল সভাপতি গোপাল হেমব্রম আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। শাসক দলের এক শ্রেণীর নেতার সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি লাগাতার দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। অবিলম্বে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হীড়বাঁধ মণ্ডল সভাপতি পদ থেকে গোপাল হেমব্রমকে না সরালে তারা আমরণ অনশন করবেন বলে হুঁশিয়ারিও দেন।

বিক্ষোভ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বিজেপির হীড়বাঁধ মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক চণ্ডী চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মণ্ডল সভাপতি দলের কোন কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করছেন। দলের সাংগঠনিক নির্বাচনের নামে ‘প্রহসন’ হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। তিনি বলেন, মণ্ডল সভাপতি একদিকে সমানে ‘ঘুষ’ খেয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু কোনভাবেই তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেননা।

জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র বেছে বেছে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’দের ওই পদ গুলিতে বসিয়েছেন দাবী করে তিনি আরও বলেন, ওই ব্লক সভাপতির হাত দিয়ে জেলা সভাপতির কাছে ‘তৃণমূলের কাটমানি’র টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। এবিষয়ে সমস্ত প্রমাণ তাদের হাতে আছেও বলে তিনি দাবী করেন। এই অবস্থায় অবিলম্বে ‘অপদার্থ-দুর্নীতিগ্রস্ত’ মণ্ডল সভাপতি গোপাল হেমব্রমকে অপসারণ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও তারা দেন।

২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে এই প্রথমবার জেলার দু’টি কেন্দ্রই জয়লাভ করে বিজেপি। ২০২০ সালে বাঁকুড়ার তিনটি পৌরসভায় নির্বাচন। অন্যদিকে ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে যখন রাজ্য দখলই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য, তখন একের পর এক জায়গায় মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন ঘিরে দলীয় গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির। যদিও এনিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ দলের কোন জেলা শীর্ষ নেতাই। এবিষয়ে দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রকে একাধিকবার টেলিফোন করা হলেও তিনি তা ‘রিসিভ’ করেননি। তাই তার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

জেলায় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন ঘিরে একের এক গোষ্ঠীকোন্দলের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাদের কটাক্ষ করার সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেনা শাসক শিবির। দলের জেলা নেতা শিবাজী ব্যানার্জীর দাবী, এদের কোন সংগঠন ছিলনা। সিপিএম বা অন্য কোন দল থেকে আসা লোকজন বিজেপির দায়িত্ব নিয়েছিল। ধর্মীয় মেরুকরণ আর মানুষকে ভুল বুঝিয়ে লোকসভায় ওরা ১৮ টি আসন জিতেছিল। মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পারছেন। বিজেপি ‘করে খাওয়ার রাজনীতি’ করছে, এরা মানুষের কথা ভাবেনা বলেও তার দাবি।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা