স্টাফ রিপোর্টার: বুধবারের বনধ ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী বিজেপির ডাকা বনধ ব্যর্থ করতে মরিয়া। অন্যদিকে বিজেপি আবার তা সফল করতে আসরে নেমেছে।

মঙ্গলবার ঘাস ফুল এবং পদ্ম ফুল দুই শিবিরের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন জায়গায় মিছিল করা হয়। উভয়েই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছে সাধারণের উদ্দেশ্যে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যান চলাচল সহ অন্যান্য পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার জন্য একগুচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিন কোচবিহারের বিভিন্ন জায়গায় বনধের সমর্থনে মিছিল করে বিজেপি। যার নেতৃত্বে ছিলেন জেলা বিজেপি সভানেত্রী মালতী রায়। এদিন বিকেলেই কোচবিহারের সুকান্ত মঞ্চে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি বনধ সফল করতে রাস্তায় নামবে, বিজেপির পাসাপাশি এই বনধের সমর্থনে রাস্থায় নামবে সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনি যদি রাস্তায় নেমে যদিও কোন সমস্যা তৈরি করে তবে তাঁর দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।”

বনধের দিন কোচবিহার জেলা সচল রাখার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বনধের দিন সরকারি বাস যথেষ্ট পরিমানে রাখা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে যথেষ্ট পরিমানে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। শাসক দলের প্রভাবিত বিভিন্ন অটো ও টোটো সংগঠনের সদস্যরা রাস্তায় নামবে বলে জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে পথে নামতে অনুরোধ করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে।

বুধবার জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে মঙ্গলবার দিনভর দফায় দফায় বৈঠক করেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক ডাঃ দীপপ প্রিয়া পি। তিনি জানিয়েছেন যে জানিয়েছেন যে বুধবারের জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জোড় করে দোকানপাট ও অফিসকাছাড়ি বন্ধের চেষ্টা করা হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে। রাস্তায় বেরিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে দুর্ভোগে পড়তে না হয় তার জন্য বেসরকারি পরিসেবার পাশাপাশি সরকারি অতিরিক্ত বাসও বুধবার রাস্তায় নামানো হবে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।

যদিও ওই জেলায় বনধ সফল হবে বলেই দাবি বিজেপির। জেলা বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু সরকার জানিয়েছেন যে মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে তাঁদের ডাকা বনধকে সমর্থন করবেন। তৃণমূলের হয়ে প্রশাসন যতই এই বনধকে অসফল করতে তৎপর হোক না কেন। সাধারণ মানুষই তা প্রতিহত করে বুধবারের বনধকে একশ শতাংশ সফল করবেন। পাশাপাশি তিনি একথাও জানিয়ে দিয়েছেন যে ১২ঘন্টার ওই বনধে শুধু বাস লরি ও অন্যান্য গাড়িই নয়। বন্ধ রাখা হবে রেল পরিসেবাও। বাংলায় কোন এলাকাতেই রেল চলতে দেওয়া হবে না।

বালুরঘাট বাস ওনার্স এসোসিয়েশানের সভাপতি অমিতাভ ঘোষ জানিয়েছেন যে প্রত্যেক বনধেই সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তাঁরা গাড়ি বনধ রাখতে বাধ্য হন। কিন্তু বুধবারের বনধে জেলা প্রশাসনের তরফে গাড়ি রাস্তায় নামানোর অন্য অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি বনধের দিন রাস্তায় গাড়ির কোন ক্ষতি হলে প্রশাসনের তরফে ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে তাঁদের।

প্রশাসনের অনুরোধকে সম্মান জানানো ও সাধারণের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই বুধবার সকাল থেকে যাত্রি পরিসেবা স্বাভাবিক রাখতে পথে গাড়ি নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সবটাই নির্ভর করবে শ্রমিকদের উপরে। শ্রমিকরা যদি গাড়ি চালাতে রাজি না হয় সেক্ষেত্রে তাঁদের কিছু করার থাকবে না বলেও মালিক সংগঠনের সভাপতি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বনধ পালন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদহ জেলা বিজেপি। জেলা বিজেপি সভাপতি সঞ্জিত মিশ্র বলেন, “আমরা বন্ধের সর্মথনে সাধারন মানুষকে নিয়ে পথে নামব। আজ এই নিয়ে মিছিল করেছি। বুধবার আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে এই বন্ধ পালনের কথা জানিয়েছি।”

যদিও বনধ ব্যর্থ করতে জেলায় স্পেশাল ফোর্স নামানোর পরিকল্পনা করেছে মালদহ জেলা প্রশাসন। মালদা জেলার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেছেন, “জেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশ প্রশাসন থাকবে। সরকারী অফিসেও ফোর্সের ব্যবস্থা থাকবে। রাস্তায় চলবে পুলিশি টহল। আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

বনধকে মোকাবিলা করতে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত বলে জানালেন জলপাইগুড়ি জেলা শাসক শিল্পা গৌড়ি সারিয়া। তিনি বলেন, ” রাজ্য সরকারের থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব অফিস খোলা থাকবে। প্রতিদিনের মত বুধবার জেলার পরিবহন ব্যবস্থা চালু থাকবে। কোন রকম অসুবিধে হবে না। কোন রকম বাধা দেওয়া চলবে না। আমাদের কন্ট্রল রুম চালু রয়েছে সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

ওই জেলার পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, “বনধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিং চলছে। হোটেল লজ গুলিতে চেকিং করা হচ্ছে। যাতে বাইরের কেউ জেলার জমায়েত হতে না পারে। পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। স্কুল কলেজ খোলা থাকবে। জোর করে বনধ করা যাবে না। যারা স্কুল, কলেজ ও অফিসে আসবেন তাদের কোন অসুবিধে হবে না”।