চণ্ডীগড় ও নয়াদিল্লিঃ মহারাষ্ট্রে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ফিরল বিজেপি৷ তবে ঢোল থেকে লাড্ডু বিলি উৎসব-উল্লাস থেকে বিরত তারা৷ সমীক্ষায় ইঙ্গিত ছিল মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানা দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে বিজেপি। সেটা বাস্তবে হয়নি৷ হরিয়ানাতে বৃহত্তম দল হলেও একার ক্ষমতায় সরকার গড়তে পারছে না পদ্ম শিবির৷

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, সকাল থেকেই ভোটের ফল নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ সহ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলাফল গণনার শুরু থেকেই মহারাষ্ট্রে অনেকটাই এগিয়ে যায় বিজেপি-শিবসেনার জোট। তারপর গণনা যত এগিয়েছে মারাঠা জনাদেশে এই জোটই যে ক্ষমতায় ফিরছে সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

মহারাষ্ট্রে ছবিটা সমীক্ষার সঙ্গে মিলে গেলেও হরিয়ানায় বদলে যায় রাজনীতির সমীকরণ। প্রথমে বিজেপি ৪০টি আসনে এগিয়ে থাকলেও পরে কংগ্রেসও ৩১টি আসনে এগিয়ে যায়। ম্যাজিক ফিগার ৪৬ থেকে বিজেপি পিছিয়ে ছিল ৫টি আসনে সেক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় হরিয়ানার দুষ্মন্ত চৌতালার জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি)। সকালেই চৌতালার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা শিরোমণি আকালি দলের প্রধান প্রকাশ সিং বাদলকে পাঠায় বিজেপি হাইকম্যান্ড।

একইভাবে দুষ্মন্তের সঙ্গে সাক্ষাত করে কংগ্রেস। হরিয়ানার ত্রিশঙ্কু ফল ঘিরে কিছুটা হলেও ‘ধীরে চল’ নীতিতে চলতে চাইছে বিজেপি। আর ভোটের ফল ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতেই হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর পদ চেয়ে বসেছেন চৌতালা। এই নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেস দুই দলের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন বলে সূত্রের খবর।

এদিকে বৃহস্পতিবার বারানসীতে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল মোদীর। তার আগে ভোটের ফল ঘিরে দিল্লিতে সংসদীয় বৈঠকে বসেন বিজেপি সাংসদ-মন্ত্রীরা। বারানসী থেকে দিল্লিতে ফিরে দলীয় সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে সভা মঞ্চে আসেন নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে এই সভা ঘিরে চোখে পড়েনি তেমন উচ্ছ্বাস। ঢোলের উন্মাদনা কিংবা লাড্ডু বিতরণ এইসবের থেকে আপাতত দূরে থাকতে চাইছে বিজেপি হাই কম্যান্ড। হরিয়ানার সমীকরণ কোন দিকে যায় সেইদিকে তাকিয়ে বিজেপি। তাই কৌশল ঠিক করার সময় এই উল্লাস না করার নির্দেশই দিয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।