নয়াদিল্লি: শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত ব্রিগেড সমাবেশে হাজির ছিলেন বিজেপি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। যিনি বাজপেয়ী জামানায় কেন্দ্রীও মন্ত্রীও ছিলেন। সেই কারণেই তিনি এই সমাবেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

আরও পড়ুন- শতাব্দীকে পাশে নিয়ে শত্রুঘ্ন বললেন, ‘খামোস’

খুব স্বাভাবিকভাবেই দলীয় সাংসদের এই পদক্ষেপ ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি। সাংবাদিক সম্মেলন করে শত্রুঘ্ন সিনহাকে আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা রাজীব প্রতাপ রুডি।

আক্রমণ করলেও মুখে শত্রুঘ্ন সিনহার নাম উল্লেখ করেননি বিজেপি নেতা রাজীব। সাংবাদিক সম্মেলনে রাজীব প্রতাপ বলেছেন, “কিছু মানুষ নিজেদের মতো করে বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন। কেউ কেউ বিজেপির ট্যাগ লাগিয়ে সাংসদ হয়ে নানাবিধ সুবিধা ভোগ করে।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, “কিছু মানুষ দলের মধ্যে নিজের একটা বাতাবরণ তৈরি করে রাখেন। যার ফলে তাঁদের সদস্যপদ খোয়া যায় না।”

একই সঙ্গে রাজীব প্রতাপ রুডি শত্রুঘ্ন সিনহাকে আক্রমণ করে আরও বলেছেন, “সুবিধাবাদী লোকজন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মঞ্চে ওঠেন। সবই সুবিধা লাভের লক্ষ্য।” শেষ মুহূর্তেও শত্রুঘ্ন সিনহার নাম উল্লেখ করেননি বিজেপি নেতা রাজীব। সাংসদ শত্রুঘ্নের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন- শতাব্দীকে পাশে নিয়ে শত্রুঘ্ন বললেন, ‘খামোস’

অন্যদিকে শুক্রবার, বাঙালি অভিনেত্রী শতাব্দী রায়কে পাশে নিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা বললেন, “খামোস।” এই বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করলেও এই সংলাপের জন্যেই বিশেষ পরিচিত তিনি। প্রথম কোন ছবিতে এই সংলাপ ব্যবহার করেছিলেন তা এখন আর মনে করতে পারেন না প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শত্রুঘ্ন সিনহা।

সাংবাদিক সম্মলনের প্রথম থেকেই শত্রুঘ্নের আক্রমণের নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। যা গত কয়েক বছরে অনেকবার শত্রুঘ্নের মুখে শোনা গিয়েছে। মোদী এবং তাঁর অনুগামীদের ঔদ্ধত্যের সমালোচনা করেন শত্রুঘ্ন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন তৃণমূলের মঞ্চে তিনি থাকবেন রাষ্ট্র মঞ্চের প্রতিনিধি হিসেবে। যার প্রধান যশবন্ত সিনহা। রাষ্ট্র মঞ্চ কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয় বলেও জানান তিনি।

মোদীকে আক্রমণ শেষ হলে রাম মন্দির নিয়ে প্রশ্ন করা হয় শত্রুঘ্ন সিনহাকে। তখন অবশ্য তিনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে আগ্রহী ছিলেন না। সাংবাদিকদের প্রতিও হারিয়েছিলেন আগ্রহ। রাম মন্দির নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “খামোস।”

খুব স্বাভাবিকভাবেই সকলে হেসে ওঠেন এই উত্তরে। সাংবাদিকদের মুখেও দেখা যায় চওড়া হাসি। পাশে থাকা সাংসদ অভিনেত্রীও আর হাসি চেপে রাখতে পারেননি।