বিশেষ প্রতিবেদন: ফের গোর্খাল্যান্ড ইস্যু মাথাচাড়া দিতে চলল পশ্চিমবঙ্গে ? কারণ, জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের তকমা ঘুচিয়ে দেওয়া ও কেন্দ্রশাসিত এলাকা তৈরি করার কথা রাখল কেন্দ্রীয় সরকার। ঠিক এর পরেই এই ইস্যুতে বিজেপিকে তাদের অবস্থান মনে করিয়ে দিলেন দার্জিলিং থেকে নির্বাচিত সাংসদ রাজু ভিস্তের। তিনি জানিয়েছেন, দল প্রতিশ্রুতি মতো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করবে। এর পরেই পৃথক গোর্খাল্যান্ড ইস্যুটি ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে।

১৯৮০ দশক থেকে চলছে রক্তাক্ত এই পৃথক গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন। সেই ধারার বর্তমান চাবিকাঠি রয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং গোষ্ঠীর হাতেই। তাদের সঙ্গেই জোট করে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র ধরে রেখেছে বিজেপি। আর মোর্চায় ভাঙন ধরিয়েও তৃণমূল নেত্রী পাহাড় থেকে নেমেছেন খালি হাতেই। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পর্যায়ভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। সেই সঙ্গে গোর্খাল্যান্ড তৈরির সমর্থনও তৃণমূল কংগ্রেস করবে না বলেই অবস্থান নিয়েছে।

বাংলাকে ভাগ করার কোনওরকম পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেই জানিয়েছেন মমতা। সোমবার জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ নম্বর ধারা প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তার আগে থেকেই উপত্যকা জুড়ে প্রবল আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অমরনাথ যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয় বিজেপি বিরোধী নেতৃত্ব ও দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। তারপরেই জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত এলাকা ঘোষণা করা হয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে গোর্খাল্যান্ড তৈরির বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার( গোজমুমো) আত্মগোপনকারী নেতা বিমল গুরুং বিজেপির অবস্থানকে সমর্থন করে ইতিমধ্যেই গোর্খাল্যান্ড নিয়ে দাবি রেখেছেন। গুরুং নেতৃত্বাধীন মোর্চার দাবি, দার্জিলিং পার্বত্যাঞ্চলের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছিল তা বাস্তবে করে দেখাক তারা। সংগঠনের অপর শীর্ষ নেতা তথা গুরুংপন্থী শিবিরের অন্যতম মুখ রোশন গিরি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, আমরা পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি জানাচ্ছি। বিজেপিও তাদের ইস্তেহারে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আমরা দ্রুত এটা নিয়ে আন্দোলনে নামছি।

রোশন গিরির মন্তব্যের পরেই দার্জিলিং-কালিম্পং দুটি জেলা জুড়েই গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের আবেগ ছড়িয়ে যাবে এবং গুরংপন্থীদের সমর্থনে পাহাড় বিজেপির দখলে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। দার্জিলিংকে কেন্দ্র করে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের হোতা অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ ও জিএনএলএফ নেতৃত্ব নতুন করে আন্দোলনের পথ খুঁজতে চলেছে বলেই খবর। দুটি সংগঠনের সুপ্রিমো তথা গোর্খা লিগের মদন তামাং ও জিএনএলফের সুবাস ঘিসিং প্রয়াত। তাঁদের উত্তরসূরিরাও নতুন করে উঠে আসার চেষ্টা করছেন।

আর গত কয়েক বছর ধরে ধংসাত্মক ও হিংসাত্মক আন্দোলন চালিয়ে আসায় অভিযুক্ত গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এখন দুই শিবিরে বিভক্ত। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পাহাড়কে শান্ত করার দাবি করেছেন। সূত্রের খবর, গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে নিজেদের মাটি ফিরে পেতে পুরনো দলগুলি নতুন করে আন্দোলনের পথ খুঁজছে। তাদের কাছে ইস্যু বিজেপি তথা কেন্দ্র সরকারের অবস্থান।