তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ভোট পরবর্তী হিংসা এখনও অব্যাহত বাঁকুড়ায়। সোমবার গভীর রাতে পাত্রসায়র বাজারে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পাত্রসায়র জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে। মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা।

তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ওই দিন রাতে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা মদ্যপ অবস্থায় পাত্রসায়র বাজারে একের পর তৃণমূল সমর্থকদের দোকানে হামলা চালায়। অ্যাসবেসটাসের চালা ঘর ভেঙ্গে ফেলার পাশাপাশি দোকানগুলিতে তারা অবাধে লুঠপাট চালায়। পরে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়ায় বড় ধরণের ক্ষতির ঘটনা আটকানো গিয়েছে।

এই ঘটনায় পাত্রসায়র বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী প্রশান্ত দত্ত বলেন, আমি ছিলাম না। সকালে শ্বশুর বাড়ি থেকে ফিরে দেখি আমার দোকানেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তিনি সক্রিয়ভাবে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন দাবি করে বলেন, এই ঘটনা কে ঘটিয়েছে তিনি সেবিষয়ে কিছুই জানেন না।

তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা পাত্রসায়র বাজার ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি অশান্তির বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। পাত্রসায়রের ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে দাবি করেন তিনি৷ এই ধরণের ঘটনা আশা করিনি। বিজেপির পরিকল্পিত এই ভাঙচুরের ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিবাদ আন্দোলনে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি।

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তাদের যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের পাত্রসায়র মণ্ডল সভাপতি তমাল কান্তি গুই বলেন, তৃণমূল ছাপ্পা দিয়ে সন্ত্রাস করেও বিজেপিকে হারাতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ পাশে থাকায় ওরা তা পারেনি। হার স্বীকার করতে না পেরে তৃণমূলের লোকেরা নিজেরাই দোকান-ঘর ভাঙচুর করে বিজেপির উপর তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

নিজেদের সুশৃঙ্খল দলের সদস্য দাবি করে বলেন, এই ঘটনায় বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। এই ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে এরপরেও বিজেপির কোন কর্মী এই ঘটনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ মিললে তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি দাবি করেন।