স্টাফ রিপোর্টার, বোলপুর: বিশ্বভারতীতে খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বহিরাগত’ বলার জন্য নানান মহলে সমালোচিত হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সেই মন্তব্যের জন্য এবার ক্ষমা চাইলেন তিনি।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, “আপনারা যদি আমার কথা ভাল করে বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে আশা করি বুঝবেন আমি কী বলতে চেয়েছি।” তাঁর কথায়, “বহু বছর আগে রবীন্দ্রনাথ এই অঞ্চল দিয়ে যাচ্ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে। তারপর এখানে বিশ্রামের জন্য দাঁড়ান এবং নাম দেন শান্তিনিকেতন। পরে তিনি এখানে আসেন।”

প্রসঙ্গত ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৫১ সালে তাকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজ করালেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের একাংশ পে-লোডার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে দেন।

এরপর রাজনীতির আঁচ আরও বেশি করে এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। পাঁচিল ভাঙায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের উসকানি ছিল বলে, এই অভিযোগে বিধায়ক ছাড়া কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

পাঁচিল তোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয় পড়ুয়াদের একাংশ। দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় নজিরবিহীন অচলাবস্থা।

সেইসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মন্তব্য ছিল, ”গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে বহিরাগত ছিলেন। তিনি যদি এই অঞ্চল পছন্দ না করতেন, বিশ্বভারতী এখানে বিকশিত হত না। এছাড়াও তাঁর সহকর্মীরা, যাঁরা বিশ্বভারতীকে জ্ঞান-সৃষ্টি এবং বিস্তারের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছিলেন, তাঁরা সকলে বোলপুরের বাইরে থেকে এসে ছিলেন।”

এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দায় মুখর হন আশ্রমিক এবং শিক্ষামহলের বিশিষ্টরা।উপাচার্যের এই মন্তব‍্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সরব নেটিজেনদের একাংশ।

এপ্রসঙ্গে বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর উপাচার্য হওয়ার যোগ্যতা নেই। তিনি আরও বলেন, “এই কথা পশ্চিমবাংলা ভারত তথা বিদেশের মানুষ কীভাবে নেবে, তাই ভাবছি।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।