স্টাফ রিপোর্টার, বোলপুর: হাইকোর্টের নিযুক্ত তদন্ত কমিটির নির্দেশে বেড়া(ফেন্সিং) দেওয়ায় কাজ শুরু হয়েছে পৌষমেলার মাঠে। যা ঘিরে নতুন করে আন্দোলন দানা বাঁধল বিশ্বভারতীতে। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারার দাবি করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা হাই কোর্ট গঠিত কমিটির নির্দেশে সোমবার থেকে ফেন্সিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে মেলার মাঠের। তার বিরোধিতায় মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনে নামল মেলামাঠ বাঁচাও কমিটি। সকাল থেকে বোলপুর এলাকায় মাইকিং করে চলছে প্রচার। প্রতিবাদ চলছে বাউল গানে। মেলার মাঠ ঘেরার বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদে শামিল করার আহ্বান জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্বভারতীর আশ্রমিকদের।

এদিন সকাল থেকে বোলপুর এলাকায় মাইকিং করে পাঁচিল বিরোধিতায় তাদের তরফে প্রচার করা হয়। বীরভূমের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এ নিয়ে আবেদনপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

সম্প্রতি, পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল তোলার কাজ করালেও, স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের একাংশ পে-লোডার নিয়ে এসে সেই নির্মাণ ভেঙে দেন। এরপর রাজনীতির আঁচ আরও বেশি করে এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। পাঁচিল ভাঙায় স্থানীয় তৃণমূল বিধায়কের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ।

বিধায়ক ছাড়াও আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। পাঁচিল তোলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয় পড়ুয়াদের একাংশ। দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে তৈরি হয় নজিরবিহীন অচলাবস্থা। এই তাণ্ডবের পর সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে জল গড়িয়েছে উচ্চ আদালত পর্যন্ত। সমস্যা সমাধানে কলকাতা হাই কোর্ট ৪ সদস্যের এক কমিটি তৈরি করে।

বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, বীরভূম জেলা প্রশাসন, আশ্রমিক, পড়ুয়া, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী সমিতি সহ সকলের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত মাঠ ঘেরার পক্ষেই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিটি। রবিবার বিশ্বভারতী ও বীরভূম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

তবে গত শনিবারও ওই কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সেখানকার ব্যবসায়ী সমিতি, স্থানীয় বাসিন্দারা।এদিকে নিজেদের আগের অবস্থানেই এখনও অনড় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমরা প্রথম থেকে প্রাচীরের বিরোধিতা করে আসছিলাম। এমনকী, বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম আদালতের গঠন করা কমিটি বিশ্বভারতীর পক্ষে।’

এদিকে, ফের নতুন করে আন্দোলন ঘনীভূত হওয়ায় বেশ চিন্তায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ১৪৪ ধারার দাবি জানিয়েছে তারা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।