স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সলিল চৌধুরী তাঁর গানে কৃষকের কথা বলেছিলেন। যারা দেশের মানুষের পেট ভরায় সেই চাষি ভাইদের কষ্ট করে ফসল ফলানোর কথা গানের মিষ্টি সুরে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তিনি হয়তো ভাবেননি তাঁর সেই বিখ্যাত ধিতাং ধিতাং বোলে গান ব্যবহার হবে কোনও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে। বিখ্যাত এই গানের গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায় হয়তো ভাবেননি, ধিতাং ধিতাং বোল প্রশ্ন তুলবে মোদী শাহ নামক কোনও এক রাজনৈতিক জুটির নীতির দিকে। ঠিক সেটাই করেছে ‘বুদ্ধায়ন’ নামের এক ‘FOLK BAND’। বিশ্বভারতীর ঘটনায় মোদী-শাহের দিকে আরও একবার আঙুল তুলে দিয়েছে চেনা গানের পরিবর্তিত ভাষা।

বুদ্ধায়নের পক্ষে জানানো হয়েছে, ‘গতকাল রাতে বিশ্বভারতীতে স্বপ্ননীল, ফাল্গুনী এবং আরও কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর ওপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হামলা করা হয়.. ফেসবুকে শেয়ার হওয়া বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবিতেই এই নৃশংসতার পরিমানটা স্পষ্ট.. শুধু তাই নয়, আক্রান্ত হওয়ার পর জখম অবস্থায় যখন ওদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন হাসপাতালেও চড়াও হয় এই গুন্ডার দল.. চাড্ডি গুন্ডার দল এতটা সাহস পায় বিশ্বভারতীর ভিসির মদতে.. এখন আর কোনো মাঝামাঝি অবস্থান নয়. বিজেপি এবং তাকে কোনো না কোনোভাবে সমর্থন করা, সাহায্য করা প্রত্যেকটি ব্যক্তি সমাজের জন্য ক্ষতিকারক’। এদের বয়কট করুন।
বুদ্ধায়নের তরফ থেকে এই গান এই আন্দোলনকারীদের উৎসর্গ করলাম.. ওরা আছে বলেই, এখনও স্পর্ধা আছে. কমরেড, আজ নবযুগ আনবে না??’

বুদ্ধায়ন ‘ধিতাং ধিতাং বোলে, কে মাদলে তান তোলে, কার আনন্দ উচ্ছলে আকাশ, ভরে জোছনায়…………’ এই লাইনগুলি পরিবর্তন করে দিয়ে গেয়েছে ‘ধিতাং ধিতাং বলে, এই NRc দাও ফেলে, এই অমিত-মোদির যুগলবন্দী আর কেহ না চায়। আয় ছুটে সকলে, আয় আয় রে দলে দলে, আজ বোঝাই ওদের বুলেট ছাড়াও লড়াই করা যায়। আয় রে আয়, বিভেদ ভুলে আয়, ফ্যাসিবাদের ঠেলায় দেশটা ডুবে যায়……’। যে অংশটিতে ওই ঘটনার কথা বলা হয়েছে সেখানকার লিরিক্স , ‘দিকে দিকে তারা ছাত্রকে পেটায়, কৃষক-মজুর মরে খিদের জ্বালায়। নাগরিক কারা জানতে যারা চায়, তাদের নিজেদের কাগজ কোথায়?’। ৫মিনিট ১১ সেকেন্ডের গানের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ২০হাজার জন্য দেখে ফেলেছেন।

প্রসঙ্গত, ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের মারধরের অভিযোগ ওঠে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে। বুধবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বিদ‍্যাভবন বয়েজ হস্টেলের সামনে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র স্বপ্ননীল মুখোপাধ‍্যায়কে মারধর করেন এবিভিপি সমর্থকরা এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছিল। গুরুতর আহত ছাত্রকে বিশ্বভারতী পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রনেতা অচিন্ত্য বাগদি, সাবির আলির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানায় পড়ুয়ারা। পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল, হাসপাতালেও চড়াও হয় হামলাকারীরা। এর প্রতিবাদেই বুদ্ধায়নের এই প্রতিবাদী গান।