সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। পরীক্ষা বিরোধী না হলেও এখন পরীক্ষা দিতে চাইছে ছাত্রছাত্রীরা। এমনই খবর মিলছে বিশ্বভারতী ছাত্র সংগঠন সূত্রে। তাই জোর না করে পরীক্ষা আপাতৎ পিছনোর জন্য আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা। সম্প্রতি ২লক্ষ আভিভাভক এখনই হাতে স্কুল খোলা না হয় টার আর্জি জানিয়েছিল। অনেকটা সেই সুর বিশ্বভারতীর মুখেও।

বিশ্বভারতী ছাত্র সংগঠন জানাচ্ছে, ‘পয়লা জুনের মিটিং অনুযায়ী বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দ্বারা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২৮/৬/২০২০ থেকে ১/৬/২০২০ এর মধ্যে সেমিস্টার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সমস্ত ফাইনাল ইয়ার এর ছাত্র – ছাত্রী দের বিশ্বভারতী ফেরৎ যেতে হবে । প্রথমে তাদের PM Hospital এ করোনা আক্রান্ত কি না পরীক্ষা করা হবে এবং করোনামুক্ত ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা দেবে। এখন এই সিদ্ধান্তের ফলে ছাত্র ছাত্রী দের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে’। উদাহরণ স্বরূপ তাঁরা জানাচ্ছেন

১- বেশিরভাগ ছাত্র বা ছাত্রীরা দূরে থাকে (যাদের ফেরৎ যেতে হবে) তাদের পক্ষে এই পরিস্থিতি তে বোলপুর ফিরে যাওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয় কারণ করোনা সংক্রমণ নিয়মিত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২- করোনা আতঙ্ক এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সীমায় অবস্থান করছে , কতৃপক্ষের এইরকম সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে অধিক অংশের ছাত্রছাত্রীরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হবে, বিশেষ ভাবে যারা হস্টেল পায়নি। তাদের থাকা এবং খাওয়ার ভয়ানক সমস্যা হবে আর এই মুহূর্তে বাইরের খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপযোগী হবে না।

৩- হঠাৎ করে ১৪ দিনের মধ্যে টার্মিনাল পরীক্ষার জন্য মানসিক ভাবে ও সম্পুর্ন পাঠক্রম অতিক্রম করে প্রস্তুত হওয়া সম্ভব না, বিশেষ করে এই রকম বিশ্বব্যাপী সংকটময় পরিস্থিতিতে। এতে পড়ুয়া দের মানসিক চাপ বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই হবে না।

৪-কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষজন এই মুহূর্তে আমফান ঝড়ে সর্বস্ব ভাবে বিধ্বস্থ, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ছাত্র ছাত্রীরা এই মুহূর্তে কি ভাবে পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুতি নেবে?

৫- অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ছাত্রীছাত্রদের পক্ষে এই মুহূর্তে ১৪ দিনে তাৎক্ষণিক নোটিশে নিজেদের রাজ্য থেকে আসা কি সম্ভব? এবং সাথে পরীক্ষার প্রস্তুতি!

৬- করোনা বা Covid-19 জীবাণুতে আক্রান্তদের অনেকের মধ্যেই সেরকম লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, এই অবস্থাই অধিক সংখ্যক ছাত্রছাত্রীরা আক্রান্ত হলে, তাদের কোয়ারণটাইন বা আইসলেশনের জন্য বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কিরকম ব্যবস্থা নেবে সে সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই ছাত্রছাত্রীদের।

এমত অবস্থায় আমাদের দাবি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে, মূলত সমস্যাগুলি, পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে আলোকপাত করুক। আমরা কখনোই পরীক্ষা বিরোধী নই কিন্তু এই রূপ পরীক্ষা দেওয়ার অর্থ নিজেদের স্বাস্থ্যকে অবজ্ঞা করা, উপরন্তু, যাতায়াতের ও যানবাহনের যথাযত ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাহত হবে শারীরিক দূরত্ব তার ফল ভবিষ্যতে ভালো হবে বলে মনে হয় না।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প