তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অবশেষে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সরতে হল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ‘বিতর্কিত’ এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাসকে। বিরোধী দলগুলি, বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের ‘বিদায়ী’ সাংসদ ও এবারে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার ওই এসডিপিও-র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন।

এমনকি বিরোধীদের তরফে বারবার বিদায়ী এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশে এই পুলিশ আধিকারিক নির্বাচন সংক্রান্ত কোন কাজে অংশ নিতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন এবার বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাস সহ রাজ্যের সাত পুলিশ আধিকারিককে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরা কেউ নির্বাচন সংক্রান্ত কোন কাজে অংশ নিতে পারবেন না বলে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বিষ্ণুপুরের এসডিপিও এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাসের সরে যাওয়া নিয়ে জেলা জুড়ে রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অমিয় পাত্র কলকাতা ২৪×৭-এর প্রতিনিধিকে টেলিফোনে বলেন, ‘‘এটা হওয়ার ছিল। ওখানকার এসডিপিও তৃণমূল সভাপতির মতো আচরণ করছিলেন। জেলা পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাওকে কবে নির্বাচন কমিশন সরায় সেটাই এখন দেখার।’’

তাঁর দাবি, আইবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল এবার হেরে যাবে। সেকারণেই পুলিশ সুপারের নির্দেশে সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের উপস্থিতিতে তৃণমূল জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ মিটিং করেছেন। সেই মিটিং-এ কোন বুথে কিভাবে রিগিং, ছাপ্পা দেওয়া যায় তা নিয়ে পুলিশ-তৃণমূল ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাবেন বলেও অমিয় পাত্র জানান।

বিজেপি নেত্রী ও বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ-এর স্ত্রী সুজাতা খাঁ বলেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তিনি খুশি৷ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিষ্ণুপুর মহকুমা জুড়ে সন্ত্রাসের আবহাওয়া তৈরি করে এখানে ভোট হতে দেননি। বদলির বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ব্যক্তিগত ব্যাপার বলেও এদিন তিনি দাবি করেন।

বিজেপি নেতা অমর শাখা বলেন, ‘‘উনি প্রশাসনিক কাজকর্ম না করে তৃণমূল জেলা সভাপতির মতো কাজ করছিলেন। এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাস প্রতিনিয়ত বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকার বিজেপি কার্যকর্তা, কর্মীদের হেনস্থা করছিলেন এমনটাই অভিযোগ তোলেন তিনি৷ বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছিলাম।’’

এবিষয়ে তৃণমূলের জেলা নেতা জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন তাদের নিজের কাজ করেছে। এবিষয়ে আমাদের দলের কোন বক্তব্য নেই। বিজেপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি অভিযোগ করে যাক। আমরা নির্বাচন করে যাই। আগামী ২৩ মে ভোটের ফলাফল বলে দেবে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ছাড়া কোন রাজনৈতিক দলের কোন অস্তিত্ব নেই।’’