তিমিরকান্তি পতি,বাঁকুড়া: চলতি বছরেই রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাগুলির সঙ্গেই বাঁকুড়ার তিন পুরসভাতেও ভোট হবে। তার আগে বিষ্ণুপুরের ১০ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারকের নাম- ঠিকানাবিহীন বেশ কিছু পোষ্টার ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। শনিবার সকালে শহরের মাধগঞ্জ এলাকায় ‘এবার চলো পাল্টাই’ লেখা বেশ কিছু পোষ্টার চোখে পড়ে।

রাজ্যে পালাবদলের আগে থেকেই বিষ্ণুপুর পুরসভায় ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। প্রথমে কংগ্রেস ও পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে টানা ৩৫ বছর পুরপ্রধান থাকার নজির গড়েছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ওই পোষ্টারের মধ্য দিয়ে এবার বিষ্ণুপুরের পুরপ্রধান ও পুরসভার শাসক বদলের ডাক দেওয়া হয়েছে কি না তা নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিষ্ণুপুরের বাসিন্দাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রহস্যজনক ওই পোস্টার ঘিরে। স্থানীয় বাসিন্দা ফেলুরাম পাল ওই পোষ্টারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তাঁর অভিযোগ, পুর পরিষেবা সঠিক সময় মিলছে না। এলাকার রাস্তা-ঘাট, নালা থেকে ডাম্পিং গ্রাউণ্ড তৈরির কাজে পুরসভার হেলদোল নেই। এলাকার অপর এক বাসিন্দা বিক্রম পাল আবার পুরসভার কাজে রীতিমতো সন্তুষ্ট।

ওই ব্যক্তি জানান, ওই পোস্টারের মধ্য দিয়ে কে কাকে পাল্টানোর কথা বলছেন তা স্পষ্ট নয়। অন্য এলাকার কথা না জানলেও তাঁদের এলাকায় ভালো কাজ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এলাকাবাসী সিদ্ধেশ্বর সেনও বদলের ডাক দিয়ে ওই পোষ্টারের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে, রহস্যজনক ওই পোস্টার লাগানোর পিছনে এলাকার বিজেপি নেতাদেরই দায়ী করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তৃণমূল নেতা রবিলোচন দে। তাঁর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বিজেপি আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। কারা এই কাজ করেছে তাদের খুঁজে বের করা হবে বলে তিনি জানান। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরেও আনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ নস্যাৎ করেছে বিজেপি। দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি স্বপন ঘোষের কথায়, বিজেপি যা বলবে তা প্রতীক চিহ্ন নিয়েই বলবে। ওই পোস্টার লাগানোর পিনে দলের কারও যোগ নেই বলে দাবি ওই বিজেপি নেতার। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিষ্ণুপুরের বাসিন্দারাই শাসকদলের উপর তিতিবিরক্ত হয়ে ওই পোষ্টার দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘মানুষ পরিবর্তন চাইলে পরিবর্তন হবে। সেই পরিবর্তন কারও পক্ষে আটকানো সম্ভব নয়।’

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব