কোচবিহার: অভাবের সংসারে কাজের জন্য ছোট বেলাতেই বাবার সঙ্গে পাড়ি দিতে হয়েছিল ভিন্ন রাজ্যে৷ ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে খোয়াতে হয়েছিল তাঁর দুটো হাতই৷ কিন্তু মনের অদম্য ইচ্ছার জেরে দেশে ফিরে পড়াশোনা শুরু করে কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি পঞ্চায়েতের বড় গদাই খোঁড়া গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণু বর্মণ৷

এই বছর সে শীতলকুচির বড় গদাই খোঁড়া ভি এম হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছে৷ ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা তার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিষ্ণু৷ সে পায়ের সাহায্যে পরীক্ষায় লিখবে৷ বিষ্ণু জানিয়েছে, সে আরও পড়তে চায়৷ পড়াশোনা শেষ করে সে সরকারি চাকরি করতে যায়৷ তাঁর অভাবের সংসারের পাশে দাঁড়াতে চায় সে৷ সে সরকারি চাকরি করে পরিবারকে সচ্ছল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যায়৷

আরও পড়ুন : মোদী জুনিয়র হওয়া সত্বেও অন্তত ১০ বার ‘স্যার’ বলে ডেকেছি: চন্দ্রবাবু

বিষ্ণুর বাবা সন্তোষ বর্মণ জানান, ২০০৮ সালে শিশু শ্রমিক হিসেবে তাঁর সঙ্গে ভিন দেশে কাজে গিয়েছিল৷ সেখানে গিয়ে কাজের সময় মেশিনে তাঁর দুটি হাতই কাটা পড়ে৷ কিন্তু তাতে সে এক বিন্দুও ভেঙে পড়েনি৷ তার অদম্য ইচ্ছা শক্তির জন্য সে পা দিয়েই সব কাজ করে৷ এমনকি পড়াশোনাও সে পা দিয়ে করে৷ এবার পায়ের সাহায্য লিখে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে বিষ্ণু৷ কিন্তু সে কোনও সরকারি সাহায্য পায়নি৷ আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না৷ যদি সে একটু সরকারি সাহায্য পেত তাহলে তার পড়াশোনাটা ভালো করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম৷

এলাকার বিডিও ওয়াংদি লেপচা ভুটিয়া বলেন, বিষ্ণুর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে৷ যাতে সে তার পড়াশোনার সব খরচ পায়৷ আপাতত এখন তার যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে কোনও অসুবিধা না তা সরকারকে জানানো হবে৷