মুম্বই : নীরজা বিড়লার এম্পাওয়ার আর দেশজুড়ে শুরু নয়া প্রচার শুরু করেছে। নাম ‘শুনো দেখো কহো’। প্রসঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা। প্রচারে নেমেছেন অমিতাভ বচ্চন নিজে। প্রকাশ হয়েছে নীরজা বিড়লা ও বিগ বি’র কথোপকথনের ভিডিও। যেখানে তাঁরা ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা লক্ষ্য করে এম্পাওয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারপার্সন শ্রীমতি নীরজা বিড়লা আর বলিউড আইকন শ্রী অমিতাভ বচ্চন এই সমস্যাগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলতে একত্র হয়েছেন। এম্পাওয়ারের ইউটিউব, ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রাম পেজে আজ প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের সেই কথাবার্তার ভিডিও। সেই খোলামেলা আলোচনায় নিজ নিজ ক্ষেত্রের এই দুই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্মম বাস্তবের ছবি তুলে ধরেছেন। বহু মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, এবং তেমন মানুষদের সাথে সমাজ কিভাবে সহানুভূতিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারে , সেসব নিয়ে দুজনে আলোচনা করেছেন। দর্শকদের কার্যকরী মতামত দেওয়ার সুবিধার্থে এই আলোচনায় অকারণ ভয়ের সাথে উদ্বেগের তফাত নিয়ে বিস্তারিতভাবে কথা বলা হয়েছে। উদ্বেগের কারণে রুটিন কাজকর্মও করে উঠতে পারছেন না , এরকম অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই কী করে ব্যাপারটাকে সামলানো যায় তা আলোচনা করা হয়েছে।

‘শুনো দেখো কহো’র পিছনের ভাবনাটাও খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ‘শুনো’ অর্থাৎ এমন কেউ, যে মন দিয়ে তার কথা শুনতে পারে, যার কাউকে নিজের কথা শোনানো খুব জরুরী। ‘দেখো’র অর্থ চোখ কান খোলা রেখে মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ এবং কষ্ট পাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের খেয়াল করুন। আর ‘কহো’ বলতে বোঝানো হয়েছে, কাউকে সাহায্য করুন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সকলকে বলুন, সচেতনতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করুন। স্কুলের শিশু থেকে কর্পোরেট কর্মী, শিল্পী থেকে রাজনীতিবিদ কে যে ভিতরে ভিতরে কোন সমস্যায় ভুগছেন তা বুঝতে পারা সহজ নয়। শ্রীমতি বিড়লা আর শ্রী বচ্চনের কথাবার্তায়, মানসিক সমস্যার কথা ‘প্রকাশ’ করলে যে কলঙ্কের শিকার হতে হয় তা নিয়েও কথা বলা হয়েছে। তাঁরা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরো বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করার উপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে যাঁরা শারীরিক নির্যাতন এবং নেশার শিকার, তাঁদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার, কারণ দুটোই মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়।

আলোচনা এগোবার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করার চেষ্টাও করেছেন। এই ধারণাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জরুরী ধারণাটা হল, মানসিক অসুখের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। এই ধারণার ফলে বহু মানুষ প্রয়োজনীয় সাহায্য নিতে চান না। শ্রীমতি বিড়লা জানান কিভাবে এম্পাওয়ার সমাজের বিস্তীর্ণ অংশের মানুষের কাউন্সেলিং করেছে, যাতে কেউ সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।

শ্রী অমিতাভ বচ্চনের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে শ্রীমতি নীরজা বিড়লা, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন, এম্পাওয়ার, বললেন, “শ্রী বচ্চন অনেকদিন ধরেই স্বাস্থ্যের নানারকম সমস্যা সম্বন্ধে সচেতনতা তৈরি করার কাজে যুক্ত আছেন। সেগুলো এমন সব সমস্যা যেগুলোর সাথে আমরা ভারতীয়রা লড়াই করি। সেইজন্য আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের মত একটা ঢাকঢাক গুড়গুড় করার বিষয়ে প্রকাশ্য আলোচনা বাড়াতে সাহায্য করবেন কিনা। তিনি সানন্দে এই বিষয়ে সাহায্য করতে রাজি হয়ে যান। আমরা শ্রী বচ্চনের সাথে যৌথভাবে এই ক্যাম্পেন করতে পেরে আনন্দিত। এ এমন এক ক্যাম্পেন, যা মানসিকভাবে ভাল থাকার গুরুত্ব বুঝিয়ে দেয়। আমাদের সৌভাগ্য যে তাঁর মত একজন কিংবদন্তী আমাদের সমাজের গভীরে প্রোথিত এরকম একটা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।

এত শক্তিশালী একটা স্বর মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আমাদের সাহায্য করবে। এই মুহূর্তে সেটা দরকার। এক প্রচণ্ড প্রতিযোগিতার যুগে আমরা বাস করছি। এই সময় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা, সমস্যাগুলোর দিকে আলো ফেলা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। #SunoDekhoKaho র মাধ্যমে আমরা নাগরিকদের শিক্ষিত করতে চাই এবং ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সহজলভ্যতা সম্বন্ধে সচেতন করতে চাই। আমরা সত্যিই আশা করছি যে অমিতাভ বচ্চন যেহেতু এই কথাগুলো অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন, সেহেতু মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে যে কলঙ্ক জড়িয়ে আছে, ক্রমশ তা দূর করতে পারব।” এক মাস ধরে ‘শুনো দেখো কহো’ ক্যাম্পেন চলবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।