সব আমলেরই  উত্থান পতন ঘটে ৷ শুধু রাজবংশ বলে নয় ব্যবসায়ী পরিবার বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও তেমনটাই দেখা যায়৷ ফলে এক ব্যবসায়ী পরিবারের সম্পত্তি হাত ঘুরে চলে যায় অন্য পরিবারে৷ গত শতাব্দীতে  দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুর পরিবারের সম্পত্তি কিনে নিয়েছিল বিড়লা পরিবার৷ এখন অবশ্য সে জায়গাটিতে  রয়েছে বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়াম । ওই স্থানটি  এক সময় ঠাকুর পরিবারেরই সম্পত্তি ছিল৷ কিন্তু ১৯১৯ সালে তা হাত বদল হয়ে চলে যায় বিড়লাদের কাছে৷

প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের আমলে ঠাকুর পরিবারের সম্পত্তি ও প্রাচুর্য্য এক চরম পর্যায়ে গিয়েছিল৷ পরবর্তীকালে এই পরিবার ঘিরে বাণিজ্যের পাশাপাশি শিল্প সংস্কৃতিতেও বিস্তার ঘটে ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ দ্বারকানাথের নাতি হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ তিনি ছাড়াও এই পরিবারের অন্যান্য সদস্য়রাও ছিলেন বিখ্য়াত।

বর্তমানে বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামের ঠিকানা ১৯এ গুরু সদয় দত্ত রোড হলেও ১৯১৯ সালের আগে ওই স্থানটি পরিচিত ছিল ১৮ বালিগঞ্জ স্টোর রোড বলে৷ মির্জা আব্দুল করিমের থেকে ১৮৯৮সালে ওই জমিসহ বাড়িটি কিনে ছিল ঠাকুর পরিবার। রবীন্দ্রনাথের চতুর্থ সন্তান মীরা দেবীর ছোটবেলার অনেকটা সময়ই কেটেছিল এই বাড়িটিতে৷ আবার ১৯১৯ সালে সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে এই সম্পত্তি কিনে নেন ঘনশ্যাম দাশ বিড়লা৷ ঘটনাচক্রে ওই বছরেই ৫০লক্ষ টাকা লগ্নি করে বিড়লা ব্রাদার্স লিমিটেড গঠন করেছিলেন তিনি৷ তবে ঠাকুরদের কাছ থেকে দক্ষিণ কলকাতার ওই সম্পত্তি কেনার পর তা বিড়লা পরিবার আমূল বদলে ফেলে৷ ভেঙে ফেলা হয় ঠাকুরদের পুরনো বাড়িটি, তার জায়গায় আর্কিটেক এন গুইন অ্যান্ড কোম্পানিকে ভার দেওয়া হয় নতুন নকশায় বাড়ি তৈরি করতে৷ একেবারে কলোনিয়ান অভিযোজিত বিভিন্ন ইউরোপীয় আর্টের সংমিশ্রণে তা তৈরি হয়৷ বিড়লারা নেওয়ার পরই ওই স্থানের (বিড়লা পার্ক) নতুন ঠিকানা হয় ১৯এ গুরুসদয় দত্ত রোড ৷ ওই বাড়িতে বহু বিখ্যাত ব্যক্তিদের পদধূলি পড়েছে ৷ যাদের মধ্যে রয়েছেন চিত্তরঞ্জন দাশ, অরবিন্দ ঘোষ,ভগিনী নিবেদিতা প্রমুখ৷ আবার বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন কাকুজো ওকাকুরা,যোকোয়ামা, হিসিদা কাতুস্তার মতো বিখ্যাত শিল্পীরা যারা ঠাকুরদের আমলে ওই বাড়িতে আসতেন৷ আবার বিড়লাদের আমলে ওই বাড়িতে মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহরু , লালা লাজপৎ রায়, পন্ডিত মদনমোহন মালব্যের আনাগোনা ছিল৷

এই বিড়লা পার্ক থেকে বিড়লা মিউজিয়াম গড়ে ওঠে ৷ ১৯৫৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় অনুভব করেছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মিউজিয়ামের প্রয়োজনীয়তা৷ তাঁর মতোই একই ধারণা ছিল ঘনশ্যাম দাস বিড়লার৷ ফলে ওই বাড়ি ও তার চারদিকে পাঁচ বিঘা জমি মিউজিয়াম গড়তে প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুকে দিয়েছিলেন তিনি৷ তারও তিন বছর পর ১৯৫৯ সালে সেখানে মিউজিয়াম গড়ে তুলে তা খুলে দেওয়া হয় জনগণের জন্য ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.