শীতকালের পিকনিক মানেই মুরগীর মাংস, ভাত, বাঁধাকপি, ডাল। শেষ পাতে আবার কোনও কোনও পিকনিক দলের মেনুতে থাকে চাটনি। কোনও কোনও পিকনিক দলের মেনুতে মুরগীর মাংসের বদলে থাকে খাসীর মাংস।

বছরের পর বছর ধরে শীতকালের পিকনিকে এই ঐতিহ্যই লক্ষ্য করা গেলেও ২০২০ সালের শুরুতে বর্ধমানের বেশ কিছু পিকনিকের জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে সেখানে রীতিমত হটকেক বিরিয়ানী। এই পিকিনিকে মেনুর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বিরিয়ানি। অনলাইন থেকে শুরু করে সরাসরি দোকান থেকে খাবার বিক্রির তালিকায় একদম প্রথম সারিতে রয়েছে বিরিয়ানী। সেই বিরিয়ানী এবার জায়গা করে নিয়েছে পিকনিকের মেনুতেও।

বুধবার ইংরাজী বছরের শুরুতে গোটা জেলা জুড়েই জায়গায় জায়গায় চলল পিকনিকের ব্যবস্থা। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই হয় দামোদরের চড়ে অথবা খড়ি কিংবা অজয় নদের চড়ে এদিন ভিড় উপচে পড়েছে। জায়গায় জায়গায় ডিজে বাজিয়ে চলছে নাচ।

তবে এবারই প্রথম পূর্ব বর্ধমান জেলার বেশ কিছু থানা এই পিকনিক পার্টিগুলিতে গিয়ে সেখান থেকে প্লাষ্টিকের থালা,গ্লাস ব্যবহার নিষেধ করেছেন। শুধু তাই নয়, এদিন বর্ধমানের সদরঘাট, জামালপুর, মঙ্গলকোট, মন্তেশ্বর প্রভৃতি প্রায় সমস্ত থানার পুলিশই পিকনিক পার্টিগুলির কাছে গিয়ে প্লাষ্টিক ব্যবহার না করার আবেদন জানিয়েছেন। এমনকি বেশ কয়েকটি জায়গায় গিয়ে পিকনিক পার্টির কাছে থাকা প্লাষ্টিক নিয়ে তাদের শালপাতার থালা, কাগজের থালাও দিয়েছেন। আর এভাবে প্লাষ্টিক বিরোধী অভিযানে থানাগুলি এগিয়ে আসায় রীতিমত খুশী হয়েছেন পিকনিক পার্টিগুলিও।

এদিন একাধিক পিকনিক পার্টির কর্তারা জানিয়েছেন, অনেক সময়ই তাঁদের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে প্লাষ্টিক ব্যবহার করতে হয় এবং হচ্ছেও। কিন্তু এদিন যেভাবে থানার পুলিশ কর্মীরা এগিয়ে এসেছেন তাতে তাঁরা শুধু খুশীই নন, সমাজ সচেতনতায় তাঁদেরও কিছু করণীয় আছে তাঁরা বুঝতে পেরেছেন। বর্ধমানের সদরঘাটে আসে একটি পিকনিক পার্টির সদস্য এক মহিলা জানিয়েছেন, থলি বা ব্যাগ নিয়ে দোকানে এখন আর যাওয়া হয়না। সাধারণত দোকান থেকেই প্লাষ্টিকের ব্যাগ দেওয়া হয়। তাঁরাও তা নিশ্চিন্তে নিয়ে বাড়ি চলে যান। কিন্তু এদিন যেভাবে পুলিশ কর্মীরা এগিয়ে এসে তাঁদের প্লাষ্টিক ব্যবহার না করার আবেদন জানিয়েছেন, তাতে কাল থেকেই তাঁরা প্লাষ্টিক বর্জন করার জন্য সবরকমের চেষ্টা করবেন।

অন্যদিকে, এদিনও বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এগিয়ে এসেছেন প্লাষ্টিক ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। এদিন কয়েকটি্ পিকনিক স্পটে বর্ধমান ফুডিস ক্লাব ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে থার্মোকল ও প্লাস্টিক না ব্যবহার করার পরামর্শ লেখা ফ্লেক্স লাগান হয়েছে।