বহরমপুর: গোটা বিশ্বে এখন কোভিড-১৯ অতি মহামারী আকার ধারণ করছে। এদিকে এই ভাইরাস যাতে দেশে না ছড়ায় তার জন্য ইতিমধ্যে ২১ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। এর ফলে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে সার্বিক অর্থনীতিতে। চরম সংকটে বিড়ি শ্রমিকরা কারণ এ সময় উৎপাদন বন্ধ কারখানায়। এমন তথ্য দিচ্ছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।‌ এ রাজ্যে এমন সংকটে পড়া বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ লক্ষের বেশি।

ওই প্রতিবেদন জানাচ্ছে, রাজ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় অনেক বিড়ি শ্রমিকরা বাড়ি বসে বিড়ি বানিয়ে দিনে ১৫২ টাকা পান। কিন্তু গত কয়েকদিন সেই টাকাও জুটছে না। ফলে ওইরকম একটি পরিবারের গৃহিণী রবিবার জানিয়েছেন, তার জানা নেই কিভাবে এখন দুবেলা খাওয়া জুটবে। এক বিড়ি শ্রমিকের প্রশ্ন, রাজ্য সরকার ডেয়ারী শিল্পকে বাঁচাতে ‌ মিষ্টির দোকান প্রতিদিন চার ঘন্টার জন্য খুলে দিয়েছে। তাহলে প্রশাসন কি তাদের অবস্থার কথা জানে না।

এইসব বিড়ি শ্রমিকদের বক্তব্য, যা জমানো টাকা রয়েছে এবং সীমিত রেশনের উপর নির্ভর করে বাঁচা সম্ভব নয়। সরকার যদি বিড়ির উৎপাদনে অনুমতি দেয় তবেই তারা বাঁচতে পারবে। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় এমন অনেক পরিবার রয়েছে যাদের গোটা পরিবারটাই বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। জঙ্গিপুর মহকুমায় প্রায় শতাধিক বিড়ি ফ্যাক্টরি রয়েছে। এখানকার কুটির শিল্পের বিড়ি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্রি হয়। এখানকার তৈরি বিড়ি ট্রেনে করে দেশের অন্যত্র যায়।

কিন্তু এখন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিড়ি পাঠানো যাচ্ছে না এবং তার ফলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে একটি বিড়ি কারখানা মালিক জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিড়ি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘লকডাউনের জেরে অসংগঠিত একাধিক ক্ষেত্রের মতোই সমস্যায় পড়েছেন বিড়ি শ্রমিকরাও। তাঁরাও বাড়িতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৭ জন বসে বিড়ি বাঁধতে পারবেন। পরে সেই বিড়ি বাজারেও নিয়ে যেতে পারবেন।’