দেবযানী সরকার, কলকাতা: কয়েক প্রজন্ম ধরে বাঙালির মাতৃ-আবাহনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গিয়েছেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর স্তোত্রপাঠের গাম্ভীর্যে মুখরিত হয়ে ওঠে মহালয়ার আধো ঘুমে-আধো জেগে থাকা পাড়া। কিন্তু এই মানুষটার শৈশব-কৈশোর অনেকেরই অজানা।

১৯০৫ সালের অগাস্ট মাসে বীরেন্দ্র কৃষ্ণের জন্ম হয়।উত্তর কলকাতার মাতুলালয়েই তাঁর জন্ম হয়। বীরেন্দ্র কৃষ্ণর পিতা রায়বাহাদুর কালী কৃষ্ণ ভদ্র ও মা সরলাবালা দেবী। পরবর্তীকালে ঠাকুমা যোগমায়া দেবীর কেনা রামধন মিত্র লেনের বাড়িতে তিনি আসেন। পঞ্জাবের নাভা স্টেটের মহারানির প্রাইভেট টিউটর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন বীরেন্দ্রর ঠাকুমা। সেই সময়ের নিরিখে তিনি ছিলেন উচ্চশিক্ষিতা। ইংরেজি, সংস্কৃত জানতেন।

বীরেন্দ্রর বাবা কালী কৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন বহুভাষাবিদ। তিনি ১৪ টি ভাষা জানতেন। নিম্নআদালতে দোভাষীর কাজ করতেন। তিনি পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যের জগতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তবে ঠাকুমার কাছেই সংস্কৃতের প্রথম পাঠ বীরেন্দ্রর। এর পরে টাউন স্কুলে ভর্তি হন। রাজেন্দ্রনাথ দের বাড়িতেই দশ বছর বয়সে প্রথম চণ্ডীপাঠ করেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ। তিনি ১৯২৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯২৮ সালে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই স্মৃতিশক্তি প্রখর ছিল তাঁর। ভাল আবৃত্তি করতে পারতেন। চল্লিশ পাতার ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ আবৃত্তি করেছিলেন প্রতিযোগিতায়। তাঁর উচ্চারণ ও মুখস্থ শক্তির পারদর্শিতা দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন বিচারক। সেই প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলেন বীরেন।

অঙ্কে মন ছিল না বীরেন্দ্রর। ম্যাট্রিক পাশ করেই জ্যামিতি, বীজগণিত, পাটিগণিতের যত বই ছিল, সব গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।

অংকের মতোই খেলাধুলোয় একেবারেই উৎসাহ পেতেন না কিশোর বীরেন। তিনি নিজেই লিখেছেন, ‘‘ঘুড়ি পর্যন্ত ওড়াতে গিয়ে দেখেছি আমি অন্য কারও ঘুড়ি কাটতে পারতুম না। এক বার ফুটবল খেলতে গিয়েছিলুম গড়ের মাঠে। বাবা বললেন, ও সব খেলাটেলা ছেড়ে দাও। ব্যস, সেখানেই ওই খেলাতেও ইতি।’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.