সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মুম্বইয়ের রাস্তায় ময়ূর, হরিদ্বারে হরিণ, নয়ডায় নীলগাই, কোঝিকোড়ে খটাশ। মানুষের জ্বালায় ক্রমে হঠে যাওয়া প্রাণীর লকডাউনের প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মনের আনন্দে যথেচ্ছ ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। একই চিত্র গ্রামীন হাওড়াতেও। সভ্য মানুষের ‘অসভ্যতা’ কমে যাওয়ায় সবুজ বাংলার মাঠে ঘাটে ফিরছে হারিয়ে যাওয়া পাখিরা।

করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন৷ পথে বেরোচ্ছে না গাড়ি৷ বন্ধ কল-কারখানা৷ বাতাসে কমেছে দূষণের পরিমাণ৷ একইসঙ্গে উপকূল গুলিতেও পর্যটকের দেখা নেই৷ করোনা আতঙ্কে সবাই আজ ঘরবন্দি৷ মহানন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে কচ্ছপের দল৷প্রচুর কচ্ছপের জন্ম হবে বলে মনে করছেন প্রাণিবিজ্ঞানীরা৷ লকডাউনের জেরে ভারতের ৯০টি শহরে ব্যাপক হারে দূষণের মাত্রা কমেছে।রাজধানী দিল্লি কিমবা মুম্বাইয়ের মতো ব্যস্ত শহরে দূষণ কমার পরিসংখ্যান থেকে অবাক হয়ে গিয়েছেন তাবড় পরিবেশবিদরাও। বড় শহরগুলির পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন জেলাতেও দূষণের মাত্রা একধাক্কায় অনেকটা কমেছে।যার অন্যতম উদাহরণ গ্রামীণ হাওড়া।

পরিবেশকর্মী সৌরভ দোয়ারী জানিয়েছেন, ‘গ্রামীণ হাওড়ায় রয়েছে ধূলাগড়,উলুবেড়িয়ার মতো বড়ো ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন। শ্যামপুরে রয়েছে কয়েকশো ইটভাটা। এর পাশাপাশি,জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন ব্লকে প্রতিদিন কয়েক হাজার যান চলাচল করে।লকডাউনের ফলে সমস্ত কিছুই প্রায় বন্ধ। যার ফলে বাতাসে দূষণের মাত্রা হু-হু করে কমছে। দৃশ্যমানতা বৃদ্ধির সাথে পরিবেশ ফিরে পেয়েছে তার সুনির্মল রূপ।পাখিরা মুক্ত বাতাসে ডানা মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর তারা যেন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। মানুষের কোলাহল কমতেই ফিরছে হারিয়ে যাওয় পাখি।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘ আকাশ-বাতাস নির্মল,পরিবেশ শান্ত। কাক,কোকিলের মতো চেনা পরিচিত বিভিন্ন পাখির পাশাপাশি মনুষ্য বসতি থেকে কার্যত হারিয়ে যেতে বসা বেশ কিছু প্রজাতির পাখিরও দেখা মিলছে।যেমন বাড়ির আশেপাশেই কণ্ঠি ঘুঘু, ব্লিথের রিড ওয়ার্বলারদের ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে যা আগে শান্ত ফাঁকা জায়গাতেই বেশী দেখা যেত।

লকডাউনে ঘরে থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে,বিভিন্ন মানুষের বাড়ির উঠানে কমলা দামার মত লাজুক পাখিও আজ হাজির হচ্ছে। প্রায় রোজই গ্রামীন হাওড়ার আকাশ দিয়ে বিকেলের দিকে খয়রা কাস্তেচরাদের উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।চাষের জমির আশপাশে বহালতবিয়তে দলে দলে সোনালী শৃগালরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ আর এভাবেই প্রকৃতি স্বমহিমায় ক্রমশ স্বপ্রতিভ হয়ে উঠছে। হয়তো বিশ্বকবির ‘লও এ নগর’-এর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, ঘুরপথে।