সিউড়ি: শীতের রাতে পথ দুর্ঘটনা রুখতে অভিনব উদ্যোগ বীরভূম জেলা ট্রাফিক পুলিশের। সিউড়ির ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এফসিআই গোডাউনের সামনে তৈরি হয়েচে পুলিশের বিশেষ ক্যাম্প। শীতের রাতে জাতীয় সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহনের চালকদের থামানো হচ্ছে। গাড়ি থেকে নামিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে গল্প জুড়ছেন পুলিশকর্মীরা। তারপর চা বা কফি সঙ্গে বিস্কুট খাইয়ে গন্তব্যস্থলে রওনা করিয়ে দিচ্ছেন গাড়িচালকদের।

কোনও গাড়িচালকের ঘুম পেয়ে গেলে তাঁকে মুখ ও ঘাড়ে-হাতে জল দিয়ে নেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে পুলিশের তরফে। শীতের রাতে গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক চালকেরই ঘুম পেয়ে যায়। মুহূর্তের অসতর্কতায় ঘটে যায় বড়সড় দুর্ঘটনা। আর সেই দুর্ঘটনা এড়াতেই এবার অভিনব উদ্যোগ বীরভূম জেলা ট্রাফিক পুলিশের।

বীরভূম জেলা ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গাড়িচালকরাও। গাড়িচালকদের সজাগ রাখতে পুলিশের এই প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা গাড়িচালকদের মুখে। সিউড়ির ১৪ নং জাতীয় সড়কে রোজ রাতে ভিনরাজ্য থেকেও বহু গাড়ি চলাচল করে। ভিনরাজ্যের এক গাড়িচালক জানিয়েছেন, প্রথমে রাতে হঠাৎ পুলিশ গাড়ি দাঁড় করানোয় প্রথমে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে যখন দেখলেন কেটলি হাতে চা-কফি নিয়ে এগিয়ে আসছেন পুলিশকর্মীরা, তখনই তাঁদের ভুল ভাঙে।

শুধু বীরভূমই নয়। এরাজ্যের একাধিক জেলায় রাজ্য ও জাতীয় সড়ক দিয়ে রোজ রাতে হাজার-হাজার গাড়ি যাতায়াত করে। বিশেষত শীতের রাতে প্রায়ই গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক চালকেরই চোখ জুড়িয়ে আসে। অসাবধানতায় প্রায়ই ঘটে যায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা। একাধিক ক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েও মাশুল দিতে হয় সেই ভুলের।

কখনওবা ঘুম এসে যাওয়ায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। রাস্তা থেকে কখনও নয়ানজুলিতে নেমে যায় গাড়ি। কখনওবা রাস্তার পাশের দোকান বা বাড়িতেও হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়তে দেখা যায় লরি বা ট্রাককে। বহু ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার পরে জানা যায়, চালক ঘুমিয়ে পড়াতেই বিপত্তি। আর তাই এবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বীরভূম জেলা ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা।

দুর্ঘটনা রুখতে পুলিশের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন গাড়িচালকরা। পুলিশের এই অভিনব উদ্যোগে এবার থেকে অসাবধানতাবশত বহু দুর্ঘটনা রোখা যাবে বলে মনে করছেন গাড়িচালকরা।