শান্তিনিকেতন: রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগীতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে স্বর্ণপদক জিতে নিল বাংলার মেয়ে। গত তেরো থেকে সতেরো সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ইউলিনস্ক শহরে অনুষ্ঠিত তাফিসা ওয়ার্ল্ড মার্শাল আর্টস ফেস্টিভ্যালে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনের গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা পারমিতা ভট্টাচার্য।

গত চোদ্দ ও পনেরো সেপ্টেম্বর পর পর দুদিনে প্রায় একডজন বিদেশী খেলোয়াড়কে হারিয়ে জুনিয়র গ্রুপে স্বর্ণপদক জিতে নেনে এই কৃতী কন্যা। বোলপুর গার্লসের দ্বাদশ শ্রেনীর এই ছাত্রী ছাড়াও ভারত থেকে এই প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করেন হরিয়ানার এক প্রতিযোগীও। এই দুই প্রতিযোগীর মধ্যে ভারতের পক্ষে একমাত্র পারমিতাই স্বর্ণপদক জিতে সবার নজর কেড়ে নিয়েছে।

এই কৃতি খেলোয়াড়ের ক্যারাটের প্রশিক্ষক কৌশভ সান্যাল বলেন প্রায় বছর চারেক আগে গোয়ালপাড়া স্কুলের মাঠে তাঁর কাছে মেয়েকে ভর্তি করে দেন কামদেব ভট্টাচার্য। সেই দিনের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী পারমিতা প্রথম সাফল্য পায় ২০১৭ সালে রাজ্য স্তরের প্রতিযোগীতায়। ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিয়ে এই খেলোয়াড় তার যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। এরপর আসামে জাতীয় স্তরের খেলায় রৌপ্য পদক ও ২০১৮ সালে মণিপুরে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগীতায় স্বর্ণপদক জিতে নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়ার ছাড়পত্র পায়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও স্বর্ণপদক জিতে নেওয়ায় এবার আরো বড় মঞ্চে এই কৃতি কন্যাকে খেলানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন তাঁর প্রশিক্ষক। তিনি বলেন ২০১৮ সালের আগষ্ট মাসে নিজের এক বান্ধবীকে ইভটিজারের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে সে। বোলপুর থানার প্রান্তিক এলাকায় নির্জন রাস্তা দিয়ে পড়ে বাড়ি ফেরার পথে এক ইভটিজারের খপ্পড়ে পড়ে তার সহপাঠী। এই সময়ে রুখে দাঁড়ায় পারমিতা।

রাস্তার ওপর ইভটিজারকে ফেলে উত্তম মধ্যম দিয়ে প্রথম সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে সে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তার প্রশিক্ষকের সাথে বাড়ি ফিরছে এই কৃতী খেলোয়াড়। সে জানায় গত চার বছর ধরে আমার প্রশিক্ষকের কাছে ক্যারাটে ও জিৎ কুনেডু মার্শাল আর্টের এই দুই ইভেন্টেই ট্রেনিং নিয়ে চলেছি আমি। এবার জিৎ কুনেডু ইভেন্টে স্বর্ণ পদক পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে আমার। এবার আমার লক্ষ্য অলিম্পিকে পদক জয়। আগামীদিনে মার্শাল আর্টে অলিম্পিকে মনোনীত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যেতে চাই আমি।

মেয়ের আত্মরক্ষা সব থেকে বেশী জরুরি স্ত্রী মধুমিতা ভট্টাচার্যকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন কামদেব ভট্টাচার্য। বাবার অনুপ্রেরণায় ক্যারাটে ক্লাশে আসা শুরু পারমিতার। সেদিনের গোয়ালপাড়া স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী পারমিতা আজ বিশ্বজয়ী। মেয়ের কৃতিত্বে আত্মহারা পিতা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর মেয়ে বিশ্ব বিজেতার খেতাব অর্জন করেছে।