ফাইল ছবি। প্রতিবেদনের সঙ্গে কোনও যোগ নেই

বোলপুর: সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনই স্কুলে রঙিন ড্রেস পড়ে আসায় শ্রেণী শিক্ষিকার রোষের মুখে পড়ে একদল খুদে পড়ুয়ারা। আর ছাত্রীদের রঙিন ড্রেস পড়ে আসার জন্য উচিত শিক্ষা দিতে ছাত্রীদের প্যান্ট খুলে নিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি ওই অবস্থাতেই তাদের ক্লাস করাতে বাধ্য করেন ওই শিক্ষিকা।

সোমবার ঘটনাটি ঘটে শান্তিনিকেতনের মকরমপুরের একটি বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যমের স্কুলে। এই ঘটনার খবর বাইরে আসতেই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিভাবক মহল। মঙ্গলবার বোলপুরের এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় বয়ে যায় শিক্ষামহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও। ঘটনায় ক্ষুদ্ধ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার রিপোর্ট ও চেয়ে পাঠান।

এদিকে খোদ শিক্ষিকার বিকৃত মানসিকতার শিকার হওয়া ছাত্রীদের অভিভাবকরা মঙ্গলবারের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে ওই শিক্ষিকার উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বুধবার সকালেই বোলপুরের ওই নামী ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে হাজির হন বীরভূম জেলাশাসকের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি। মঙ্গলবার ঠিক কি ঘটেছিল সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি রিপোর্ট পেশ করবেন এই কমিটির সদস্যরা।

জানা গিয়েছে, জেলাশাসকের এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। স্কুলে ছাত্রীদের পোশাক বিতর্কের তদন্তে গড়া জেলাশাসকের নেতৃত্বাধীন স্কুল পরিদর্শক কমিটিতে রয়েছেন ডি এম ছাড়াও শিশু সুরক্ষা কমিশনের আধিকারিকরা। এদিকে মঙ্গলবারই পোশাক বিতর্ক কাণ্ডে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সঠিক তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতনের মকরমপুরের ওই বেসরকারি স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক দিন আলাদা আলাদা রঙের ইউনিফর্ম পরতে হয় । এই নিয়ম অনুযায়ী সোমবার যে রঙের ইউনিফর্ম পরার কথা তা পরেনি প্রাইমারি সেকশনের জনা তিরিশের ছাত্রী। অভিযোগ, সেই কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীদের লেগিন্স খুলে নেয়।

শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার এই অবস্থাতেই ওই ছাত্রীদের ক্লাস করতে হয় বলে অভিযোগ। তারপর সেভাবেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় ছাত্রীদের। স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই পড়ুয়ারা নাকি স্কুলের ইউনিফর্ম পরে আসেনি। এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় বীরভূমের বোলপুরে। শুধু তাই নয়, প্রিন্সিপ্যালকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।