বালুরঘাটঃ পুরসভার চেয়ারম্যান বনাম তৃণমূল সভাপতির কাজিয়ায় সরগরম দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ। দিল্লি থেকে ফিরে বৃহস্পতিবারই গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের আসনে গিয়ে বসেন সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী বিপ্লব মিত্রর অনুজ প্রশান্ত মিত্র। এদিন তিনি পুরসভায় চেয়ারম্যানের আসনে বসেই তৃণমূল সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, অর্পিতা ঘোষ একজন বহিরাগত মহিলা। তাঁর কোন অধিকার নেই কাউকে দল থেকে বহিস্কার করার। এদিন গঙ্গারামপুর পুরসভা ভবনে গিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে ফাইলপত্রে সই ও সাধারণ মানুষের সাথে কথাও বলেন তিনি।

গত ২৫ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা ও দল থেকে বহিস্কার প্রসঙ্গে এদিন তিনি বলেন যে তিনি এখনও তৃণমূলেই রয়েছেন। তাছাড়াও এলাকার মানুষ যেহেতু তাঁকে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি করেছেন এবং পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলর তাঁর সাথেই রয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি অর্পিতা ঘোষের নাম উল্লেখ না করে বলেন একজন বহিরাগত মহিলা জেলা সভাপতি হয়ে তাঁকে বহিস্কার করার কোন অধিকারই নেই। সেই সঙ্গে তিনি নিজেকে এখনও তৃণমূলের বলেই দাবি করেছেন।

বিপ্লব মিত্রর ভাইয়ের মন্তব্যের পালটা জবাবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বলেন প্রশান্ত মিত্রের কোন আত্মসম্মান বোধ নেই। তা থাকলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা সত্বেও তিনি চেয়ারে বসতেন না। বিপ্লব মিত্রর ভাই হিসেবে অহেতুক নিজেকে ভগবান ভাবছেন প্রশান্ত মিত্র।

প্রসঙ্গত গত ২৪জুন দিল্লিতে বিজেপি শিবিরে যোগ দেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্র। বিপ্লব মিত্রর সাথে তাঁর ভাই গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রও দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেদিন তিনি বিজেপিতে যোগ না দিলেও বিজেপির রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ দিল্লি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে বিপ্লব মিএর নেতৃত্বে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদ দখলের পাশাপাশি গঙ্গারাপুর ও বুনিয়াদপুর দুই পুরসভাও তাঁদের দখলে আসতে চলেছে।

এর পরেই জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অর্পিতা ঘোষ ২৫জুন প্রশান্ত মিত্রকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য দলথেকে বহিস্কার করেন। পাশাপাশি অর্পিতা গোষ্ঠীর লোক বলে পরিচিত গঙ্গারামপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু সরকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন। সেই ঘটনার পর আজই গঙ্গারামপুরে ফিরে পুরসভায় যোগ দিয়েছেন প্রশান্ত মিত্র।