বালুরঘাটঃ সভাপতিত্ব চলে যাওয়ায় অন্যান্য পদগুলিও ছেড়ে দিতে চলেছেন বিপ্লব। তবে এই মুহুর্তেই দল থেকে পদত্যাগ করবেন কি না তা এখনই জানাতে চাননি দক্ষিণ দিনাজপুরের সত্য প্রাক্তন সভাপতি বিপ্লব মিত্র। শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে লোকসভা নির্বাচনী ফলাফলের পর্যালোচনা শেষে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সভাপতির পদ থেকে বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে দিয়েছেন। সে জায়গায় নতুন সভাপতি হিসেবে অর্পিতা ঘোষের নাম ঘোষনা করেছেন তিনি।

এদিন সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে জেলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বিপ্লব মিত্র তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান kolkata24x7 কে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দোপাধ্যায় তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী। যখন তিনি বুঝেছেন যে তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে দলের ভাল হবে। সেক্ষেত্রে তাঁর আর কিছুই বলার নেই বলেই মন্তব্য করেছেন বিপ্লববাবি। আর এই ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে সে বিষয়ে বিপ্লব মিত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যে শুধু সভাপতি পদই নয়। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য সমস্ত পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপিতে যোগ দিবেন কি না সেই প্রসঙ্গে অবশ্য স্পষ্ট করে কিছু জানাতে রাজি হননি বিপ্লব মিত্র।

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের দিন ঘোষণা পরেই কোর কমিটির বৈঠকে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তারপর থেকেই প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে সোশ্যাল সাইটের দেওয়ালে মন্তব্যের ঝড় বইতে শুরু করে৷ বিশেষ করে টলি-তারকাদের প্রার্থীপদ নিয়ে উঠতে থাকে নানা প্রশ্ন৷ মিমি-নূসরত-দেব-মুনমুন সেনের মতো প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয় নানা মন্তব্য৷ তবে অন্যদিকে আরও এক ধরণের প্রচার শুরু হয় যে, প্রার্থীপদ নিয়ে দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷ আর সেই তালিকায় সেই সময় উঠে আসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিপ্লব মিত্রের নাম৷

প্রচার হতে শুরু করে যে, গঙ্গারামপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন৷ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে দলে থাকা বিপ্লববাবুর বিজেপি যোগের খবর উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো৷ উল্লেখ্য, বসন্তের কোকিল’ বালুরঘাটের তৃণমূল কংগ্রেসে বিদায়ী সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে প্রার্থী করার ব্যাপারে প্রথম থেকে আপত্তি জানিয়েছিলেন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র৷ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের একাংশেরও প্রবল আপত্তি ছিল অর্পিতাকে ফের প্রার্থী করার ব্যাপারে৷ কিন্তু কে কার কথা শোনে! নেত্রী সেই অর্পিতাকেই প্রার্থী করেন। ফলে যা হওয়ার হয়। বালুরঘাটে শোচণীয় পরাজয় হয় তৃণমূলের। হেরে পুরো দায় বিপ্লব মিত্রের ঘাড়েই দেন অর্পিতা। এরপরেই কার্যত সভাপতির পদ থেকে বিপ্লবকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তিনি।