বালুরঘাটঃ দক্ষিণের উল্টো চিত্র উত্তরবঙ্গে। কাঁচরাপাড়া পুরসভায় দখল নিতে ব্যর্থ হলেও উত্তরের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের দখল নিতে সফল হল বিজেপি। বৃহস্পতিবার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্রর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রথম এই জেলাপরিষদের দখল নিল গেরুয়া শিবির।

এদিন বিজেপিকে জেলাপরিষদের দখল পাইয়ে দিয়ে বিপ্লব মিত্র তৃণমূলের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন বাম আমলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনের পথে লড়াই করে নেতা মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন পুলিশকেও তিনি হাজতবাস করিয়েছিলেন। সুতরাং পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে তৃণমূলের কেউ যেন বিজপির সদস্যদের ভয় দেখানোর দুঃসাহস না দেখান।

গত ২৪জুন দিল্লী গিয়ে বিজেপিতে যোগদানের পর বৃহস্পতিবার প্রথম বিপ্লব মিত্রর নেতৃত্বে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় তাঁর চেয়ারে বসেন। সঙ্গে ছিলেন পূর্ত ও প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ সহ নির্বাচিত অন্যান্য ছয় জন সদস্য। এদিন প্রথম জেলাপরিষদ দখলের মুহুর্তে বিপ্লব মিত্রর সাথে রাজনৈতিক নেতৃত্বদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু সরকার ও রাজ্য কমিটির নেতা নীলাঞ্জন রায়ও। জেলাপরিষদের দখল নেওয়ার আগে এদিন বেলা ২টা নাগাদ বালুরঘাট নাট্যমন্দিরে জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

সেখানে বিপ্লব মিত্র সহ জেলাপরিষদের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নাট্যমন্দির থেকে রেলী করে বিপ্লবের নেতৃত্বে তাঁরা জেলাপরিষদে যান। এদিন বিপ্লব মিত্রর সাথে ছিলেন জেলাপরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়। কৃষি কর্মাধ্যক্ষ শংকর সরকার। প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ যথাক্রমে শংকর সরকার চিন্তামনি বিহা এবং মোফেজ মিয়া সেই সঙ্গে আরেক সদস্য প্রতিভা মন্ডল।

সভাধিপতির চেয়ারে লিপিকা রায়কে বসিয়ে সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী বিপ্লব মিত্র বলেন পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী ১৮ আসন বিশিষ্ট এই জেলাপরিষদের এক তৃতীয়াংশ সদস্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সুতরাং বিজেপির দখলেই চলে আসল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদ বলে তিনি দাবী করেছেন। এদিকে তৃণমূলের পক্ষে থাকা শিক্ষাকর্মাধ্যক্ষ প্রবীর রায় জানিয়েছেন যে এদিন লিপিকা রায়ের সভাধিপতির চেয়ারের বসার ঘটনা তিনি জানেন। এক্ষেত্রে তিনি বলেন যে বিজেপির হয়ে নয়। লিপিকা রায়ের উচিৎ পুনরায় নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে তবেই ঐ চেয়ারে বসবেন।